• শিরোনাম

    ৪ লাখ টাকা দোকান বাকি করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আব্দুল বাছিত বাচ্চু

    | ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 1247 বার

    ৪ লাখ টাকা দোকান বাকি করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আব্দুল বাছিত বাচ্চু

    পেশা জীবন শুরু করেছিলেন চারণ সংবাদকর্মী হিসেবে। এখন তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। সবকিছু মাড়িয়ে এই অঞ্চলে তাঁর পরিচয় একজন মানবতার ফেরিওয়ালা। সেই ফেরিওয়ালা হলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চু।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক সরকারি ত্রাণের চাল চুরির মত ঘটনা ঘটছে সেখানে চেয়ারম্যান বাচ্চু একটু ব্যতিক্রম রয়েছেন। তিনি নিজে উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রায় ৪ লাখ টাকা দোকান বাকি করে তাঁর ইউনিয়নের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।



    এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৫৭১টি কর্মহীন পরিবারের মুখে হাঁসি ফুটিয়েছেন। বিদায়ী বছরের জুন-জুলাই মাসে মনু নদীর ভাঙনের সাথে এক অসম যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর এখন লড়ছেন করোনাভাইরাস নামক এক মহামারীর বিরুদ্ধে।

    এই মহামারির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ইউনিয়নের নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষুধা নিবারণে তিনি প্রাণপ্রণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ও বিভিন্ন এলাকায় নিজে উপস্থিত হয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানুষদের সচেতন করে তুলছেন।

    করোনার দূর্যোগকালীন সংকটে সরকারি নির্দেশনায় যানবাহনসহ সকল দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরা বন্ধ থাকায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের কয়েক সহস্রাধিক কর্মজীবী নিম্ন আয়ের মানুষ। যার কারণে সবাই ক্ষুধার জ্বালায় এক মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    সেই অসহায় ও কর্মহীন মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু। তাঁর মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে ইউনিয়নের প্রবাসী ও তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

    তাদের সকলের সহযোগিতা পেয়ে এ পর্যন্ত ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের ৪২ টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার ৫৭১টি কর্মহীন নিম্নআয়ের পরিবারের বাড়িতে চাল ডাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু খাবার সহায়তা পৌঁছে দেন তিনি।

    ইতোমধ্যে প্রবাসীসহ সকলের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো। অথচ এ পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রী প্রদানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। চাল ও ডালের দোকানে ৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে মহাজনের।

    যদি এই টাকা পরিশোধে কেউ এগিয়ে না আসে তাহলে চেয়ারম্যানকে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। চেয়ারম্যান বাচ্চু প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে প্রথমে কর্মহীন নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করেন, পরে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন খাদ্য সহায়তা। কিন্তুু এই খাদ্য সহায়তা প্রদানের সময় তিনি কোন ছবি তুলেননি।

    কমপক্ষে তিন দিনের এই খাদ্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে (চাউল, আলু, তেল, ডাল, পেঁয়াজ ও ১টি করে সাবান। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দ থেকে পাওয়া আরো ৬০০ পরিবারে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন। চেয়ারম্যান বাচ্চু’র এমন উদ্যোগ দেখে স্থানীয় এলাকার অনেক ব্যক্তি ও সংগঠনের সদস্যরা অনুপ্রাণিত হয়ে কর্মহীনদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

    তারা এখন পর্যন্ত ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার ৪০০ পরিবারে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি চেয়ারম্যান বাচ্চুর মতো উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে কর্মহীনদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করছেন।

    হাজিপুর ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, ‘২০১৮-২০১৯ সালের বন্যায় সরকারি বেসরকারি ভাবে উনি যে ত্রাণ এনেছেন হাজীপুর ইউনিয়নের মানুষ এর আগে এতো ত্রাণ পায়নি। এখন করোনা আসার পর থেকে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগনের পাশে রয়েছেন সব সময়।’

    এক প্রতিক্রিয়ায় হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু এ প্রতিবেদককে জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষের চলার পথ।

    এ জন্য মানবিক কারণে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এলাকার মানুষের পাশে থাকার জন্য আমার উদ্যোগে আমার নিকটআত্মীয়, শুভাকাঙ্খী ও এলাকার প্রবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতায় অন্তত ইউনিয়নের ২৫৭১ জন কর্মহীন মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, এটাই আমার পরম সার্থকতা।

    তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। এই কথাটি প্রমাণ করেছেন আমার ইউনিয়নের কিছু প্রবাসী ও আমার আত্মীয়স্বজন সহ শোভাকাঙ্খীরা। বিগত দিনের ন্যায় বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা রোজাদার গরীব মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

    এই রহমতের মাসে আরও অন্তত এক হাজার কর্মহীন পরিবারকে আমরা ইফতার সামগ্রী দেয়ার চিন্তা করেছি। খাদ্য সহায়তা বাবদ দোকানে এখনো বাকি রয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সেটা বর্তমানে আমার নিজ জিম্মায় রয়েছে। তবুও আমরা থেমে থাকতে চাই না। চলবে খাবার সহায়তা কর্মসূচি। যতোদিন চলবে এই অবরুদ্ধ অবস্থা।’

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ইউনিয়নের কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করে চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।’

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১