• শিরোনাম

    হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রেডিও, আজও বাজে জুমির আলীর ঝুপড়ি ঘরে

    | ২৬ জুন ২০২০ | ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 150 বার

    হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রেডিও, আজও বাজে জুমির আলীর ঝুপড়ি ঘরে

    উনবিংশ শতাব্দীতে রেডিও ছিলো একমাত্র জনপ্রিয় (সংবাদ)বিনোদন মাধ্যম। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় জনপ্রিয় এই যন্ত্রটি হারিয়ে গিয়েছে প্রায়। তবে বাংলার বুকে রেখে গেছে স্মৃতিময় অধ্যায়।

    বর্তমানে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেও রেডিওর দেখা পাওয়া প্রায় দুষ্কর হয়েছে। হাতেগোনা কিছু ঘরে রেডিও থাকলেও তা আজ বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহিত হচ্ছে। অনেকে স্মৃতি হিসেবে সাজিয়ে রেখেছে শোকেস,মিকশেপ বা ডেসিন টেবিলে।



    গ্রামের বয়জৈষ্ঠদের মাধ্যমে জানা যায়, তাঁদের সময়ে নানা অনুষ্ঠান, বিনোদন ও খেলার ধারাবর্ণনা ছাড়াও আবহাওয়া, রাজনৈতিক খবরাখবর শোনার একমাত্র মাধ্যম ছিল এই রেডিও। বিশেষ করে উপকূলবাসীদের আবহাওয়ার খবর জানার প্রধান যন্ত্র ছিল এটি। এছাড়া জেলে সম্প্রদায় যারা গভীর সাগরে মাছ আহরণে (শিকার) যেত তারা আবহাওয়ার খবর শুনতে ব্যবহার করতো রেডিও।

    বাংলার জমিনের সাথে রেডিও অধভুত ভাবে জড়িত। ৫১ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯এর গন অভ্যুত্থান ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার মানুষের খবরের একমাত্র বাহন ছিলো এই রেডিও। মুক্তিযুদ্ধের ডাক, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিনের খবর, যোদ্ধাদের সাহস, সন্মান দেখিয়ে দেশাত্ববোধক গান, স্বাধীনতার ঘোষণা এই সকল কিছু দেশ বাসীর মাঝে পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র বাহন ছিলো রেডিও। একমাত্র তৎকালীন সময়ের মানুষ গুলোই রেডিও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে।

    রেডিও আসার পর প্রায় ঘরে ঘরে জায়গা করে নেয় টেনডেস্টার নামের রেডিও। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া হতো এটি। এমন কি সদ্য নতুন জামাই কেউ দেয়া হত। তখন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদের কাছে রেডিওর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
    বেতারশ্রোতারা বেশিরভাগ সময় নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, জারি ,সারি, ভাটিয়ালী, গানের ডালি, দুর্বার, সুখী সংসার, দর্পণ, বাংলা ছায়াছবির গান, নাটক শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন।

    আধুনিকতার সুবাদে এখন সকলের হাতে হাতে মোবাইলফোন, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট পৌঁছে বিলুপ্ত হয়েছে রেডিও। গ্রামগঞ্জে দুই-একটা ঘর ছাড়া রেডিও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিছু প্রবীণ মানুষের কাছে রেডিওতে বিবিসির খবর শোনা এখনো পছন্দনীয়।

    অদূর ভবিষ্যতে বাচ্চারা বইতে বেতারযন্ত্রের নাম পেলেও বাস্তবে দেখতে পাবে না। দেখতে হলে তাদের যেতে হবে জাদুঘরে।
    অনেক খোঁজাখুঁজির পরে চাটমোহর উপজেলার ভাদড়া গ্রামের জুমির আলীর ঝুপড়ি ঘড়ে রেডিও এর সন্ধান পাওয়া যায়।

    জুমির আলীকে রেডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে, আমি যেদিন থেকে রেডিও কিনি এটা আমার চলার সঙ্গী। ছোট বেলায় এই রেডিও একবার আমার মামাতো ভাই নিয়ে গেলে, আমার কান্নার ঢোল দেখে কে।ছোটকাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যা কিছু জানা তার প্রায় সব এই রেডিও এর কারনে। কত আনন্দ নিয়ে এখনো বিবিসি নিউজ শুনি।আমার স্ত্রী সন্তান আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে আমি একা জীবন কাটাচ্ছি।

    বাড়িতে থাকার যায়গা নাই,নাই কোন বিদ্যুৎ পাবনা পবিসে-১ আবেদন করবো তাও তেমন টাকা কড়ি নেই।অর্থ অভাবে একা থাকায় সুখে দুখে এই রেডিও কে নিয়ে আমার নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে জীবন সংগ্রামের সহিত চলে আসছি।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ‘আমার ফাঁসি চাই’

    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০