• শিরোনাম

    সাইফুর রহমানের স্মরণ সভায় নেতাকর্মীদের কাঁদালেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী

    | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮:৪৩ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 70 বার

    সাইফুর রহমানের স্মরণ সভায় নেতাকর্মীদের কাঁদালেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী

    উন্নয়নের দিক থেকে সিলেট বিভাগের অদ্বিতীয় রাজপুত্র সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান । তাঁর মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে ঢাকার বাসা থেকে সরাসরি সিলেট চলে আসেন।

    ওইদিনকার ঘটনাবহুল অনেক স্মৃতি নিয়ে সাইফুর রহমানের নিজ বাড়ী বার্হামর্দ্দানে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আয়োজিত স্মরণ সভায় যোগ দিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশেনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সেদিনকার পূণ্যভূমি সিলেটে শেষবারের সফরের অজনা কথা দলীয় নেতাকর্মী ও ভক্তবৃন্দের কাছে তুলে ধরে কাঁদিয়েছেন।



    আরিফ জানালেন,‘সাইফুর রহমানের মৃত্যুও আগের দিনকার সিলেট সফরের কথা। দলীয় নেতাকর্মী ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন,‘যদি একটু মনে করে দেই তাহলে ২০০৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জুমআ বার ছিল। ঢাকা থেকে উনাকে অনেক বারণ করার পরও কারো কথা না শুনে তিনি সিলেট পূণ্যভুমিতে আসেন।

    এবং দুপুর ১২টা ১০/১৫মিনিটের সময় তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে উপস্থিত হন। তাঁর মন্ত্রীত্বের আমলে নিজের হাতে গড়া এই সিলেট সার্কিট হাউসের যে কক্ষে ওজু করতে চেয়েছিলেন,থাকতে চেয়েছিলেন,বর্তমান সরকার তাকে সেই রুম না দিয়ে অন্য একটি রুম দিয়েছিল। তিনি মনের দু:খ কষ্টে সেখান থেকে বলেন-‘ আমি আর সার্কিট হাউসে থাকবো না’।

    এই সময় আমি বলেছিলাম,স্যার জুমআর ওয়াক্ত হয়ে গেছে, আমরা লালদিঘীর পাড় দিয়ে আমরা মসজিদে চলে যাই। তিনি আমাদের বলেন লালদিঘীর পাড় হয়ে কোনদিকে যাব। আমরা বললাম লালদিঘীর পাশ দিয়ে পেছন দিকে গিয়ে মসজিদে খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছাবো। সেদিন তিনি আমাকে উত্তর দিয়েছিলেন,দেখো,আমি সাইফুর রহমান কখনো পেছনের দরজা দিয়া কোথাও যাইনি।

    আমি সম্মুখের দরজা দিয়েই বন্দর বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদে যাবো। আমরা উনার নির্দেশ মতেই সেখান থেকে রওয়ানা দেই। সার্কিট হাউসের গেইট থেকে বেরিয়ে তিনি হঠাৎ করে নিজের গাড়ী থামিয়ে দিলেন। এবং তিনি সুরমা নদীর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মতো তিনি করো সঙ্গে কোনও কথা না বলে এই নদীর দিকেই তাকিয়েছেন।

    সেই সময় চ্যানেল এস নামক টেলিভিশন এরা মাইক্রোফোনটা নিয়ে মাননীয় মন্ত্রীর কাছে ধরলেন,স্যার আপনার অনুভূতি। তিনি তখন বলেছিলেন,‘সুরমা নদীর তীরে,আমার ঠিকানা রে। বাবা শাহজালালের দেশ সিলেট ভূমি রে’। এই কথা বলেই কিন্তু গাড়ী স্টার্ট করেই আমরা বন্দর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য অবতারণা হয়।

    সেখানে এম সাইফুর রহমান অন্যান্য দিনের মতো কিন্তু এতো শান্ত ছিলেন না। তিনি নিজেই হাতে মাইক্রোফোনটা নিয়ে মুসল্লীয়ান সবার কাছে দোয়া ও মাফ চেয়েছিলেন এবং অনেক আবেগপ্রবণ অবস্থায় সেদিন মসজিদে ৫০০ বস্তা সিমেন্টও দান করেছিলেন।

    তার পরে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আমরা দেখলাম। সিলেটের জনগণ সাধারণত: জুমআর নামাজ আদায় করার পর কেউ মসজিদে থাকে না,বা সালাম ফেরানোর পরেই মানুষ চলে যায়। কিন্তু এদিন একটি লোকও মসজিদের বারিন্দা,উপরের ছাদ,দোকান কোথাও থেকে মানুষ সরে যায় নাই।

    সবাই যেনো শেষ বিদায় জানানোর জন্যই দাঁড়িয়ে থাকলো। উনাকে নিয়ে বাহির হলাম। কিন্তু উনি দেখি আবার পিছনদিকে তাকিয়ে জনগনের উদ্দেশ্যে ওয়েল করতেছেন। সবার কাছে বলতেছেন আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। বলে বলে অনেকক্ষণ লেগেছে, আমরা বন্দর জামে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে। সেখানে আমরা শাহজালালের মাজারে গেলাম।

    সেখানে তিনি নিজেই বড় হাত তুলে দোয়া করলেন। এর কিছুক্ষণ পরে আমি দৌঁড়ে গিয়ে মাওলানা জাকারিয়াকে নিয়ে আসলাম। যিনি দরগার একজন আলেমে দ্বীন। তিনিও এখন জীবিত নেই মরহুম। তাকে আনা হলো তিনি দোয়া ধরলেন আবার দোয়া করলেন। দোয়া করেই কেঁদে ফেললেন। তিনি এতো বিমর্ষ হয়ে কিছুক্ষণ দরগার শরীফের চর্তুদিকে তাকালেন।

    তারপর আমাদেরকে নিয়ে গাড়ীতে করে শাহপরানে আসলেন। হযরত শাপরান র.আ: মাজারে গিয়ে অভূতপূর্বদৃশ্য। সেখানে আমি ছিলাম। আমার সাথে ইশতিয়াকসহ আরও অনেকে ছিল। ওখানের চেয়ারম্যানরাও ছিলেন। আমি দেখলাম উনি সিঁড়ি বেঁয়ে উপরে উঠতে পার বেন না। আমরা মোতাওয়াল্লীর কাছ থেকে চেয়ার এনে দিলাম।

    সেই চেয়ারে বসে শিশুদের মতো কাঁদতেছেন। আর উনার সেই কথা এখনো আমার কানে বাঁজে। তিনি বলেছিলেন ও আল্লাহ আমি আজকে তোমার ওলীর বাড়ীতে এসেছি। তার ওসীলায় তুমি আমাকে মাফ করে দাও। আমি তোমার কাছে স্যারেন্ডার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও।

    এইভাবে বলে কাঁদতেছেন আর এই কথা বলতেছেন। এর পরে বাচ্চাদের মতো বলতেছেন ও আল্লাহ আমি মারা যাবার পরে আমাকে বেশী বেত দিওনা আল্লাহ। দুই এক বেতের বেশী বেত দিওনা আল্লাহ। আমি বেশী বেত সহ্য করতে পারবো না। আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দাও। এই যে উনার কাকুতি। এটা দেখে আমরা হতবম্ব হয়ে গেলাম। আমি উনাকে ডাকতেও পারি নাই।

    তবে একই কথা উনি বার বার রিপিট করতেছেন। আর অঝোরে কাঁদতেছেন। অনেকক্ষণ হওয়ার পরে আসরের নামাজ তখন শেষে হয়ে গেছে। রোজা মাস। সিলেটে থাকবেন না। তখন শাহজালাল মসজিদের ইমামের কাছে দোয়া চাইলেন। উপস্থিত সকলের সাথে মিলামিলি করলেন। সকলের দোয়া চাইলেন। ইশতিয়াকসহ আমাদের সকলকে মাথায় ধরে বার বার আদর করতেছেন।

    এইভাবে কোনদিনই করেন নাই। তারপরে উনাকে আমরা সিলেট থেকে বিদায় দিলাম। মৌলভীবাজারে পৌছার পর আমার সাথে কথা হল। যে মৌলভীবাজারে স্যার পৌঁছে গেছেন। রাত সাড়ে আটটার সময় আমাকে ফোন দিয়ে বললেন,আরিফ আমি একজনের সাথে কথা বলতে পারি নাই। তিনি হচ্ছেন- বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেটের সবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।

    সে আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতো। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে পারলাম না। তো তাঁর বাসার নাম্বারটা। আমি বাসার নাম্বারটা দিলাম। এর পরে ফোনে উনি কথা বললেন। উনার সঙ্গে কথা বলার পর আবার আমার সাথে কথা বলে স্যার বললেন সবার সাথে আমার কথা বলা শেষে হয়ে গেছে। আল্লাহ হাফিজ।

    এর ঠিক পরদিন শনিবার বেলা একটা সোয়া একটার দিকে শুনলাম টেলিভিশনে স্ক্রল আসতেছে। ব্রাম্মণবাড়িয়ায় মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার পর ঢাকা থেকে শুরু করে সিলেট,সিলেট থেকে শুরু করে মৌলভীবাজার এতো বড় জানাযা আমার মনে হয় সিলেটে বার বার আর হবে না।

    বাহারমর্দ্দানের এই বাড়ীতে আমরা অনেকদিন আমরা এসেছি। এই বাড়ী অনেক কিছুর স্বাক্ষী। অবসর সময়ে যখন এই বাড়ী আসতেন সিলেটে যেতেন,হবিগঞ্জে যেতেন,সুনামগঞ্জে যেতেন। কিন্তু রাত্রে মৌলভীবাজারে এসে কোন কোন কাজ বাকী থাকলো সেগুলো দেখতেন। আমি এম সাইফুর রহমানের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড বলতে গেলে দুইদিনে পারবো কিনা জানিনা।

    সিলেট বিভাগ বলতে যে জিনিসটি- আমরা পিছিয়ে পড়া সিলেটেকে যিনি সামনের দিকে নিয়ে এসেছিলেন তিনি হচ্ছেন,এম সাইফুর রহমান। সেই সড়ক বলেন,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগখাতই বলেন, বা যে সেক্টরেই বলেন,সিলেট বিভাগ বলেন,সিলেট কর্পোরেশন। সবই এম সাইফুর রহমানের। আজ এই সরকারের এতোটি বছর পেরিয়ে গেল যদি তুলনা করা হয়,কিসের উন্নয়নের রোড মডেল।

    তাহলে বলতে হয়.‘উন্নয়নের অবস্থা এমনই হয়েছে,সিলেট থেকে এখন মৌলভীবাজারে আসলে আমার ফিজিওথেরাপি দেওয়া লাগবে। গিয়েছিলাম চাঁদপুরে। আলহামদুল্লিাহ। সিলেটের যেসব রাস্তা এবং দুই লাইনের সড়ক তো উনি করে গেছেন। তিন লাইনের সড়ক তো করতে পারেন নাই। বিভাগ সাইফুর রহমান করে গেছেন। করপোরেশন সাইফুর রহমান করে গেছেন।

    আপনারা পেরেছেন কি সাইফুর রহমানের নাম মুছে দিতে। সিলেটের এগ্রিকালচার ইউসির্ভাসিটি থেকে খালেদা জিয়া,সাইফুর রহমান,দুররে সামাদ রহমান এদের নাম মুছে ফেলা হল। স্টেডিয়াম থেকে নাম মুছে ফেলা হল। বিভাগীয় স্টেডিয়াম থেকে শহীদ প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা হল। তাতে কি হয়েছে,পুরো সিলেট বিভাগ আজকে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে আছেন উন্নয়নের মহাপুরুষ মরহুম সাইফুর রহমান।

    তিনি সরকার দলকে ইঙ্গিত করে বলেন,নাম মুছে ফেলতে পারবেন পাথর থেকে,নাম মুছে ফেলতে পারবেন সাইবোর্ড থেকে কিন্তু এম সাইফুর রহমানকে মানুষের অন্তর থেকে মুছে ফেলতে পারবেন না। আজকে সাইফুর রহমান নেই। কেউ আমাদেরকে দাওয়াত করে নাই। যারা সাইফুর রহমান প্রেমিক তারা স্বপ্রণোদিতভাবে বাহারমর্দ্দানে এসেছে। যদি কোভিড না হতো তাহলে বাহারমর্দ্দানে মানুষের জায়গা হতো না।

    তিনি বলেন,‘মরহুম এম সাইফুর রহমানের সাথে কাজ করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করি। আমরা এমন এক নেতার সংর্স্পশে থেকে আমরা রাজনীতি করেছি,যে নেতা আমাদের শিখিয়েছেন উন্নয়নের রাজনীতি। যে নেতা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন শিষ্টাচারের রাজনীতি। যে নেতা আমাদেরকে শিখিয়েছেন রাজনীতির সম্প্রীতি। এই সিলেট বিভাগে রাজনীতিতে আমাদের মধ্যে একটা সম্প্রীতি ছিল। উনি কখনো আওয়ামীলীগ,জাসদ,বাসদ এইগুলা বিচার করতেন না।

    বলতেন আমরা সবাই সিলেটি। এই শিষ্টাচারের এখন বড় অভাব। মরহুম সাইফুর রহমান হবিগঞ্জের উন্নয়ন করেছেন বলেই গউস বলেছে,পৌরসভায় দলমত নির্বিশেষে মানুষ তাকে বার বার মেয়র নির্বাচিত করেছে। আজকে সাইফুর রহমানের সঙ্গে কাজ করার কারণে,সাইফুর রহমান আমাকে হাতে ধরে আরিফ প্রতিষ্ঠিত করার কারণে সিলেটের মানুষ বিশ^াস করে।

    সাইফুর রহমানের সঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী কাজ করেছেন বলেই শত চক্রান্ত ষড়যন্ত্রেও মধ্যেও মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এই মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান ফয়জুল করিম ময়ুনকে দিয়ে পৌরসভায় সাইফুর রহমান অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সাইফুর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে কাজ করতে হয়।

    আরিফ বলেন,‘আজকে উনারা মধ্যম আয়ের দেশের কথা বলেন,‘আরে বাবা মধ্যম আয়ের দেশ করার কার অবদান। মরহুম এম সাইফুর রহমান এদেশের ভ্যাট প্রবর্তন করেছিলেন। তখন আজকের সরকার আপনার বলতেন ভ্যাট মন্ত্রী। উনাকে নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়েছিল।

    আজ উনি দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ রচনা করেছিলেন বলেই আজকের সেই ফরেন রিজার্ভ গঠন করেছিলেন বলেই আজকে নতুন করে মধ্যম আয়ের দেশ বলা হচ্ছে। অথচ তখনকার বিএনপির সরকারের আমলেই বিশে^র বড় বড় পত্রিকাগুলি আমাদের অর্থনীতিকে ইমাজিং টাইগার বলে বলেছিল।

     

    তিনি বলেন,যতদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকার,বেগম খালেদা জিয়ার সরকার এদেশ শাসন করেছে ততদিন এদেশের উন্নয়ন হয়েছে। মার চেয়ে মাসির দরদ বেশী দেখিয়ে লাভ নেই বলে আরিফ বলেন,‘সিলেট বিভাগে কি করেছেন,এ চিত্র একবার দেখান। কিছুই দেখাতে পারবেন না। দেখাতে পারবেন এইটুক। শাহেদ সৃষ্টি করেছেন। সাবরিনা সৃষ্টি করেছেন। প্রদীপদের সৃষ্টি করেছেন।


    নিজের উপর মামলা সম্পর্কে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,‘ওয়ান ইলেভেনেও পালিয়ে যাইনি। আত্মসর্মপন করেছি। এখনও শান্তিতে থাকতে পারছি না। একটা যায় না আরেকটায় ঢুকায়। মামলারও যে কতো ধরণ হয়েছে। এর লাগি আল্লাহ তায়ালার গজব এই করোনা। করোনায় দেখুন এমন নমুনা লইছে,হেও রুপ বদলাই লায়।

    তাইন যত বেরা চেরা করইন হেও রুপ বদলায়। ঠিক এই সরকারও আইন বদলায়। আর ঘুম তাইক্ক্যা উঠেইে প্রতিদিন তসবীহর মতো জপবো খালি বিএনপি বিএনপি। আমরা বিএনপিওয়ালারা এখন মাতরাম না ঘর থাকি বারইরামও না। তার পরও ই তসবীহ না জপলে তারা শান্তি পায় না।

    কারণ তারা ভালা করি জানে আইজ নিরপেক্ষ নির্বাচন হউক একদম বিনা গোল কিপারে খালি গোল একটা না কয়েকটা গোল দিতাম পারমু। খালি তারা দুন্বরী শয়তানী বাদ দিলাউক।ইতাতো পারতো নায় পারলে আমরারে খিলা হারাইতো (জেলে) অই চিন্তা করের।”

    হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গউস বলেন,‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনা দায়ক। আজ থেকে ১১ বছর আগে ২০০৯ সালে এইদিনে আমাদের ছেড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চিরদিনের জন্য আমাদের ফেলে চলে গেছেন। আজকে উনার বাড়ীতে সকাল থেকে এই কোভিডের মধ্যে লোকে লোকারন্য হয়ে গেছে। এতে বুঝা যায় সাইফুর রহমান সাহেব মানুষের হৃদয়ে কতো গভীরে চলে গেছে। হবিগঞ্জ সিলেট ডিভিশনেরমধ্যে একটি অনুন্নত জেলা ছিল।

    ৭৯ এ শহী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের জীবদ্দশায় হবিগঞ্জে প্রথম ধানের শীষের এমপি আবু লেইছ মুবিন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পর থেকেই যত নির্বাচন হয়েছে আজ পর্যন্ত হবিগঞ্জের সদরে আমাদের বিএনপির কোন এমপি নির্বাচিত করতে পারি নাই।

    এম সাইফুর রহমান আমাদের দু:খ ,আমাদের কষ্ট,উনি বুঝতে পেরেছিলেন। সেজন্য উনি শুরু থেকেই ১৯৯১ সালে বিএনপি প্রথম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর থেকে যতবার বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে হবিগঞ্জের উন্নয়নের জন্য যে ভুমিকা রেখেছেন। তার কৃতজ্ঞতা হবিগঞ্জের মানুষ বিভিন্নভাবে প্রকাশ করেছে। আর আমি হচ্ছি তার অন্যতম উদাহরণ।

    ২০০৪ সালে হবিগঞ্জের মানুষ সর্বপ্রথম আমাকে হবিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যন নির্বাচিত করেছিল। ২০১১ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের এই ডাকাতির সময়ও সাইফুর রহমানের উন্নয়নের কারণে হবিগঞ্জের মানুষ আমাকে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত করেছে। তৃতীয়বার ২০১৫ সালে সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সিলেট করাগারে আমি আটক ছিলাম।

    কিন্তু হবিগঞ্জের মানুষের কাছে ছিল সাইফুর রহমানের উন্নয়ন আর আমার সততার কারণেই হবিগঞ্জের মানুষ ৩০শে ডিসেম্বর সিলেট করাগারে বন্দী থাকাবস্থায়ও নৌকা প্রতীকের চেয়ে সাড়ে তিন হাজার ভোট বেশী পেয়ে আমাকে নির্বাচিত করে বিএনপির প্রতি সাইফুর রহমানের প্রতি খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    আমরা হবিগঞ্জের মানুষ সকলেই সাইফুর রহমানের উন্নয়নের কথা নিয়ে সর্বক্ষেত্রে আলোচনা হয় তখন দল মতের উর্দ্ধে উঠে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করি।
    গউস বলেন,‘আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যামামলায় জেলে না হলেও কার্যত তিনি উনার বাসায় গৃহবন্দী।

    তার কোনও বাক ও চলা ফেরার স্বাধীনতা নেই। উনার বিরুদ্ধে আনা রাস্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে গণআন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে জনগনের ভোটাধিকার ও সুষ্টু ও অবাধ গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনাতে হবে।

    জনগনের ভোটের মাধ্যমে আবারো বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত করে সাইফুর রহমানের সিলেট বিভাগের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর এটাই হবে আজকে আমাদের অঙ্গীকার।

    ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আয়োজনে ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিজ বাড়ী বাহারমর্দ্দানে মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপত্বিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

     

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর ও রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান।
    সম্মানিত অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী,বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্পাদক জিকে গউস।

    মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এম সাইফুর রহমান স্মৃতি সংসদের সভাপতি সৈয়দ তৌফিক আহমেদ, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম এ মুকিত,সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন বক্স,জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো.রুবেল আহমেদ।

    স্মরণ সভায় জেলা বিএনপি ও অংঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
    এর আগে শনিবার সকাল থেকে দিনভর এম সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দানে কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল দোয়া ও শিরনী বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

    সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান কে সাথে নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জি কে গউছ এম সাইফুর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    এর পর একে একে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি,জেলা যুবদল,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, জেলা ছাত্রদল, জেলা শ্রমিকদল,জেলা জাসাস,জেলা কৃষকদল,জেলা তাঁতীদল জেলা ওলামা দল, জেলা প্রজন্মদল,এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ,মৌলভীবাজার সদর থানা বিএনপি,পৌর বিএনপি,শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ উপজেলা পৌর বিএনপি, রাজনগর উপজেলা বিএনপি, কুলাউড়া উপজেলা, পৌর বিএনপি ও মৌলভীবাজার সদও উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাইফুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে মৌলভীবাজার কবর জিয়ারত ও স্মরণ সভায় অংশ নেন।

    এছাড়া হবিগঞ্জ,সিলেট ও মহানগর, জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল সহ অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা এম সাইফুর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    এদিকে সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মৌলভীবাজারের জেলা শহরের ও উপজেলার মসজিদগুলোতে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয় ।

    উল্লেখ্য ২০০৯ সালে ৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার খড়িয়ালা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।

    সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, দেশের উন্নয়ন, সিলেট বিভাগসহ নিজ জেলা মৌলভীবাজারে উন্নয়নে নিরলস কাজ করে গিয়েছিলেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নে এক ব্যতিক্রমি ব্যক্তি ছিলেন। সর্বদা তিনি দেশ ও এলাকার সামগ্রীক উন্নয়নে সময় পার করতেন।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    সালমান শাহ’র মৃত্যুর ২৩ বছর

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    বাবা হলেন রুবেল

    ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১