• শিরোনাম

    সকালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, বিকেলে খারিজ

    | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১:১৫ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 68 বার

    সকালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, বিকেলে খারিজ

    মদদদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আসামি করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত শিকদারের আদালতে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।



    আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নথি পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দিবেন বলে জানান। মামলার বিষয়ে আদালতে কর্মরত সাংবাদিকরা বাদী এ বি সিদ্দিকী জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সকালে মামলা দায়ের করেছি আদালত বলছে পরে আদেশ দিবে কিন্তু বিকাল প্রায় ৫ টার সময় আদালত মামলাটি গ্রহন না করে খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, আদালতের এরূপ আদেশের আমি সন্তুষ্ট নই। আমি এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ফৌজদারী মামলা দায়ের করিবেন।

    বাদী তার মামলায় অভিযোগে উল্লেখ্য করেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে নি:শেষ করা পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতা- বাদীর দৃষ্টিতে ঘটনার প্রধান আসামি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে থলের বিড়াল বের হয়ে এসেছে। খালেদা জিয়া পরিকল্পনা করেছিলেন। মেজর জিয়াউর রহমান যেভাবে আড়ালে থেকে বঙ্গবন্ধুকে নি:শেষ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন, তারপরও তিনি আসামি হননি। বেগম খালেদা জিয়াও তার স্বামীকে ফলো করে আড়ালে থেকে মুফতি হান্নানের দলবল দিয়ে শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের যারা জীবিত আছে এবং দলের শীর্ষ নেতাদের নি:শেষ করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন।

    এতে আরও উল্লেখ্য করা হয়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের আগেই তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জঙ্গি সংগঠনের প্রধান মুফতি হান্নান, ডিজিএফআই পরিচালক মেজর জেনারেল রেজাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই প্রধান ব্রিগেডিয়ার আব্দুর রহিম, পুলিশপ্রধান আশরাফুল হুদা এবং হারিছ চৌধুরী, আব্দুস সালাম পিন্টু, আলী হাসান মুজাহিদসহ সকল প্রশাসন প্রধানদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেন। যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় কীভাবে ২১ আগস্টে ১৫ আগস্টের খুনের মতো শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সবাইকে হত্যা করে সফল হতে হবে।

    মামলার অভিযোগে বাদী আরও উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা যখন ভাষণ শুরু করেন, তখনই বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুড়ে দেয়া হয়। গ্রেনেড বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা শেখ হাসিনাকে আড়াল করে জীবন রক্ষা করেছেন এবং তাকে যখন গাড়িতে তুলে দেন তখনও তার গাড়িতে গুলি করা হয়। বুলেট প্রুফ গাড়ি হওয়ায় আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান। কিন্তু সেই গ্রেনেডের আঘাতে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ঘটনাস্থলেই ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। কমপক্ষে আরও ৩০০ জনের ওপরে নেতাকর্মী আহত হন।

    ‘আহত নেতাকর্মীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। তবে তাদেরকে ভর্তি করা হয়নি। প্রশাসনের লোকজন দিয়ে তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেল (পিজি হাসপাতাল) বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যখন খালেদা জিয়া জানতে পারেন যে, শেখ হাসিনা মারা যাননি, তখনই তিনি প্রশাসনের লোকদের নির্দেশ দেন দ্রুত আলামত নষ্ট করার জন্য এবং যা যা দরকার তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য, যাতে তার ওপর কোনো দোষ না পড়ে। প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে জানান যে, ঘটনাটি একটু দুঃখজনক বিষয়, একটি দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে জজ মিয়া নাটক সৃষ্টি করে সঠিক বিচারের কবর দেন। বেগম খালেদার হুকুমে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’

    এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ সদস্য শেখ সেলিম, শেখ হেলাল ও হাজি মো. মাহবুব আব্দুল্লাহকে।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১