• শিরোনাম

    লকডাউনে ক্ষতি কোটি টাকা হাঁসের বাচ্চা এখন মাছের খাবার!

    | ২১ জুন ২০২০ | ৬:৫৬ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 362 বার

    লকডাউনে ক্ষতি কোটি টাকা হাঁসের বাচ্চা এখন মাছের খাবার!

    যেখানে নিয়মিত কর্মব্যস্ততার চাঞ্চল্য ছিল সেখানে এখন শুনশান নিরবতা বিরাজ করছে। করোনাভাইরাসের কারণে হাঁসের খামারের কার্মক্রম সীমিত পরিসরে চলছে। হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের মৌসুমে এ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয় খামারটিতে। লোকসানে বাচ্চা বিক্রি, মাটির নিচে পুতে ফেলতে হয় একদিন বয়সের হাঁসের বাচ্চাগুলো। নষ্ট হয়েছে কয়েক লাখ ডিম। এসব কারণে তিন মাসে হাঁসের খামারটিতে লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। কথা হচ্ছিলো চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামে জাকির এন্ড ব্রাদার্স মিক্সড অ্যাগ্রো ফার্ম এন্ড হ্যাচারির বর্তমান অবস্থা নিয়ে। হাঁসের খামারের সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আরও বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হতে পারে খামারটির। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ৪৮ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠেছে জাকির এন্ড ব্রাদার্স মিক্সড অ্যাগ্রো ফার্ম এন্ড হ্যাচারি। বেইজিং ও খাঁকি ক্যাম্বেল জাতের হাঁস রয়েছে খামারে। বেইজিং হাঁস ৫ হাজার ও খাঁকি ক্যাম্বেল জাতের হাঁস রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। খামারে হাঁস রাখার জন্য ১৬টি শেড ও হ্যাচারিতে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য কয়েক ধরণের মেশিন রয়েছে।



    খামারের ব্যবস্থাপক ইয়াসিন আলী জানান, হাঁসের খামারে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনের উপযুক্ত সময় মার্চ থেকে মে মাস পুরোটা । এ সময় দেশে ডিম ও বাচ্চার চাহিদা থাকে অনেক বেশি। ৩০ হাজার হাঁস থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬-১৮ হাজার ডিম পাওয়া যায়। প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ বাচ্চা উৎপাদন হয়। যা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়। এখন করোনাভাইরাসের কারণে ডিম ও একদিনের বাচ্চা বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। গত ৩ মাসে হ্যাচারি থেকে প্রায় ১৫ লাখ একদিনের বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত বাচ্চার মধ্যে মাত্র ৫ লাখ বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। তাও আবার প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি করা হয় ৫-৭ টাকা দরে। যেখানে প্রতিটি বাচ্চা উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত ২০-২২ টাকা খরচ হয়। ১০ লাখ বাচ্চা অবিক্রিত থাকায় মাটিতে পুঁতে ফেলা ও মাগুর মাছের খাবার হিসেবে দেওয়া হয়। ১৫ লাখ বাচ্চায় লোকসান হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকার মত।

    জানা যায়, হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে জেলায় প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হত নিয়মিত। তাদের অধিকাংশ এখন বেকার হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে পরিবার পরিজন নিয়ে।

    জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, জাকিরের হাঁসের খামারটি অনেক বড়। করোনার কারণে খামারটির লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়েছে। বাচ্চা ও ডিম বিক্রি অনেক কম হচ্ছে। হ্যাচারিতে বাচ্চা বেশি উৎপাদন হয়। সরকারিভাবে সহযোগিতা করা যায় কি না সেটা চিন্তা করা হচ্ছে।

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০