• শিরোনাম

    মৌলভীবাজারের পরিচিত ফুটবলার শখের মাল্টা বাগানেই সময় কাটাচ্ছেন মাহবুবুল

    | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:৫১ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 102 বার

    মৌলভীবাজারের পরিচিত ফুটবলার শখের মাল্টা বাগানেই সময় কাটাচ্ছেন মাহবুবুল

    একসময় মৌলভীবাজার জেলার পরিচিত ফুটবলার ছিলেন। দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মাঠ। তবে এখন সেসব কেবলই স্মৃতি মাহবুবুলের কাছে। শখের বসে বাড়ির পাশে ১২০ শতক জমিতে শুরু করা বাগানেই সময় কাটছে তার। এই শখের মাল্টা বাগানে এখন নিজের ভবিষ্যত দেখছেন মাহবুবুল।

    রয়েছে ৬০ টি মাল্টা গাছ। পাশাপাশি ১০ থেকে ১৫ জাতের ফলও রয়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসে কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাল্টার চাষ শুরু করেন। এরপর করতে থাকেন গাছের যত্ন। নিজের তত্বাবধানে কোনো শ্রমিক ছাড়াই শখের বাগানে পরিচর্যা করতে থাকেন। তাই প্রথম বছরেই গাছে মাল্টা আসে। কিছু মাল্টা বিক্রি করেন আবার কিছু আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দেন।



    সম্প্রতি মাল্টা বাগানে গেলে দেখা যায় রাস্তার পাশেই বাগান। মাল্টার ভারে প্রতিটি গাছ নিচের দিকে ঝুকে পড়েছে। ফল এখনো পরিক্ক হয়নি। দুই একটি গাছের ফল কিছুটা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।

    সারি সারি করা গাছগুলো নিজেই পরিচর্যা করছেন মাহবুবুল। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে এই জমিতে একটি ব্রিকফিল্ড ছিলো। পরে ব্রিকফিল্ডটি সরিয়ে ফেলেন। তাই দীর্ঘদিন এই জমিতে কিছু না লাগালেও ১৬ সালের দিকে এরকম একটা বাগান করার পরিকল্পনায় করেন। এই বাগান করার আগেও তিনি বড়িতে বিভিন্ন শাকসবজির ছোট ছোট বাগান করতেন।

    মাহবুবুল বলেন, বাগানটি আমি শখের বসেই করেছি। মৌলভীবাজার কৃষি বিভাগ আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছে। প্রথম বছর থেকেই আমার বাগানে মাল্টা ধরতে শুরু করে। গত বছর ১০ হাজার টাকার মালটা বিক্রি করেছি। প্রতি কেজি মাল্টা ২০০ টাকা করে বিক্রি করি। খুচরা কাস্টমার বেশি ছিল। পরিচিত অনেকেই আগে থেকে অর্ডার করে রাখতো।

    লেবু জাতীয় ফসল মাল্টা। খুব নামি দামি এই ফলটি বাইরে থকে এসে দেশের চাহিদা মেটাতো। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে দেশেই হচ্ছে এই মাল্টা চাষ। দাম যেহেতু ভালো পাওয়া যায় তাই চাষিরাও ঝুঁকছেন এই মাল্টা চাষে।

    পাহাড় টিলা ব্যাষ্টিত মৌলভীবাজার জেলার মাটি রসালো ফল চাষের উপযোগী। বিশেষ করে লেবু, কমলা ও আনারসে পাশাপাশি এখন আবাদ হচ্ছে মাল্টার। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নেন গয়গড় গ্রামে অবস্থিত মাহবুবুলের মাল্টা বাগান।

    মাহবুবুল জানান, একসময় মৌলভীবাজার জেলার ভালো একজন ফুটবলার ছিলেন তিনি। খেলেছেন জেলার বাইরে গিয়েও। পরে একসময় খেলাধুলা বাদ দিয়ে শখ করেই বাড়ির পাশেই এই বাগানটি করি।

    তিনি বলেন, বাগানে এইবার ভালো ফল এসেছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি গাছ গ্রীনিং রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত কীটনাশক দিচ্ছি যাতে তাড়াতাড়ি গাছটি আক্রান্ত থেকে সেরে উঠে। বাগানটি দেখতেও অনেকে আসেন। ভবিষ্যতে এই বাগান আরও বড় পরিসরে করার চিন্তা আছে।

    মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত ছোট-বড় মিলে ২৭৫টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। বাগানে মোট জমির পরিমাণ ৮০ হেক্টর। গড় ফলন ৬ মেট্রিক টন। আর মোট ৪৮০ মেট্রিক টন উৎপাদন হওয়ার কথা বলছে কৃষি বিভাগ।

    সবচেয়ে বেশি শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মাল্টা উৎপাদন হয়ে আসছে। এ উপজেলায় পনেরো হেক্টর জমিতে ৫৫টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে।

    মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, এ জেলার মাটি যেহেতু কিছুটা এসিডিক সয়েল সেজন্য লেবুজাতীয় ফসলের জন্য উপযোগী। পাহাড়-টিলা বেষ্টিত জেলার মাটি মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

    এছাড়া বারী মাল্টা-১ জাত এ অঞ্চলের মাটিতে ভালো ফলন হয়েছে। ছোট আকৃতির এ ফসল অত্যন্ত রসালো ও সুস্বাদু হিসাবে বেশ পরিচিত হয়ে উঠছে।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    প্রবাসী বন্ধুদের আড্ডা

    ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০