• শিরোনাম

    মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনসহ আসছে নতুন ৭ প্রকল্প

    | ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৭:৫৮ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 299 বার

    মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনসহ আসছে নতুন ৭ প্রকল্প

    মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন ব্যবস্থাসহ নতুন ৭টি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর-২-এ গড়ে তোলা হবে মুক্তিযোদ্ধা পল্লী।

    এ পল্লীতে পাঁচতলা উচ্চতার প্রতিটি ভবন নির্মাণ করা হবে। জেলা পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও নেয়া হচ্ছে আলাদা আবাসন প্রকল্প। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর টর্চার সেলের আদলে এর রেপ্লিকা ও ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণ, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র, প্রতি জেলায় স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্যানোরমা স্থাপন ও মুক্তিযুদ্ধ ভবন নির্মাণ করা হবে।



    প্রকল্পগুলোর সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এসব প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

    জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে জানান, টর্চার সেলের আদলে এর রেপ্লিকা ও ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণের জন্য আলোচনা চলছে। জায়গা খোঁজা হচ্ছে। খুব শিগগির এ ব্যাপারে সমাধান হবে।

    এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নেয়া প্রকল্পগুলো ইতিবাচকভাবে দেখা হয়। নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব এলে এগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।

    সূত্রমতে, প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। এতে চলমান ও নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের টর্চার সেলের আদলে টর্চার সেলের রেপ্লিকা ও ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণের জন্য স্থাপত্য অধিদফতরকে নকশা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এ নিয়ে স্থাপত্য অধিদফতর কাজ করছে। আর অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে প্রত্যেক ইউএনওকে চিঠি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। ইউএনওদের প্রতি ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্য থেকে একজন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করে এর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন : সরকার ঢাকার মিরপুর-২-এ চিড়িয়াখানা সংলগ্ন একটি মুক্তিযোদ্ধা পল্লী গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প নেয়া হবে। এর নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পল্লী। এর আওতায় পল্লীতে একাধিক ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনের উচ্চতা হবে ৫ তলা। এটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদফতর।

    জানা গেছে, এই প্রকল্প নিয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, গণপূর্ত অধিদফতর, স্থাপত্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বৈঠক করেছেন।

    টর্চার সেলের রেপ্লিকা ও ঘৃণাস্তম্ভ : মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেছে। নির্যাতন চালানো প্রায় প্রতিটি স্থানকে টর্চার সেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই টর্চার সেলগুলোর আদলে একটি রেপ্লিকা তৈরি করা হবে। একই স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের বিরুদ্ধে ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

    এজন্য একটি প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। ঘৃণাস্তম্ভ ও টর্চার সেলের রেপ্লিকা নির্মাণের জন্য রাজধানীর মোহাম্মদপুরের উন্মুক্ত স্থানকে বেছে নেয়া হবে। এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সচিব সম্প্রতি মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

    রেপ্লিকার পাশেই স্থাপন করা হবে ঘৃণাস্তম্ভ। রেপ্লিকায় ফুটিয়ে তোলা হবে পাকিস্তান বাহিনী ও রাজাকার-আলবদর মিলে যুদ্ধের সময় কীভাবে এ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নির্যাতন চালাত। পাশাপাশি মা-বোনদের কীভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হতো, যা দেখে পাশেই নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম তাদের মনের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।

    অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথক আবাসন প্রকল্প : জেলা পর্যায়ে নির্মাণ করা হবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথক আবাসন প্রকল্প। এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এ প্রকল্পের ডিজাইন ও নকশা। প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপজেলায় ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে আনুপাতিক হারে একজন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চিঠি দেয়া হয়েছে। ইউএনও তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপন : মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য স্থান পরিদর্শন করেছে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি স্থাপত্য অধিদফতর এরই মধ্যে এ প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন করেছে। এ নকশা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন (ডিপিপি) করতে নির্দেশ দিয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছে গণপূর্ত অধিদফতর।

    জেলা পর্যায়ে স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ : মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান দেখাতে প্রত্যেক জেলায় সরকারিভাবে একটি করে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে বেসরকারি উদ্যোগে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। এবার করা হবে সরকারিভাবে।

    পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাক্ষ্য ধরে রাখতে নির্মাণ করা হবে জাদুঘর। যেখানে নতুন প্রজন্ম ওই জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খুঁজে পাবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি নকশা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্থাপত্য অধিতফতরকে। এই নকশা তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

    মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্যানোরমা নির্মাণ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্যানোরমা নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আলাদা একটি সমীক্ষা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্যানোরমা প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ ও ডিজাইনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ সম্পাদন করা হবে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর মূল প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করা হবে।

    মুক্তিযোদ্ধা ভবন নির্মাণ : কেন্দ্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস, স্মৃতি, ডকুমেন্ট, তথ্য, আর্কাইভ এক ছাদের নিচে ধরে রাখতে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এর নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ভবন। এই ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় জমি ঠিক করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে। এ সংস্থাকে জমি নির্বাচন করে তা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০