• শিরোনাম

    মাদ্রাসা থেকে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে মৌলভীবাজারের হেলাল

    বিডি জনপ্রত্যাশাঃ | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২:২৩ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 536 বার

    মাদ্রাসা থেকে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে মৌলভীবাজারের হেলাল

    বিডি জনপ্রত্যাশাঃ স্টেডিয়ামের পাশেই মাদ্রাসা। সেখানে দিনের বেশিরভাগ সময় মাথা ঝুঁকিয়ে পড়তেন হেলাল। কিন্তু অল্প দূরে মাঠ থাকায় বিকেল হলেই কানে আসতো ফুটবল আর খেলোয়াড়দের হল্লার শব্দ।

    সুযোগ পেলেই চলে যেতেন মাঠে, মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে দেখতেন ফুটবল খেলা। সেই থেকেই হয়তো ফুটবলের পোকা ঠাঁই পেয়েছিলো কিশোর হেলালের মনে-মগজে। মাদ্রাসা ছুটি থাকলে, বেশিরভাগ সময় কাটতে থাকে ফুটবলের সাথেই। ফুটবল তখন তার অন্য একটি ধ্যানের বিষয়। অবশ্য পরিবারের লোকজন তখনো জানেন না এই খবর।



    ২০১৫ সালের ঘটনা। কোনো এক দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যায় হেলালের। ভাঙা হাত নিয়ে সেই মাদ্রাসার পাশের মাঠে বিকেলে যেতেন খেলা দেখতে। তখন বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় বাছাই করছিলো বাফুফে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইলেন কিশোরটি। কিন্তু তাঁর হাত তখনো ভাঙা। ভাঙা হাত নিয়ে ট্রায়েলে অংশ নেওয়া দূরহ ব্যাপার। কিন্তু যার মনে ফুটবল এতোদিনে গেঁথে বসেছে, সে কী এতো সহজেই হার মানবে?

    IMG-20190905-WA0014-750x430

    জেদি কিশোর হার মানেনি। সেদিনের ভাঙা হাত নিয়ে ট্রায়েল দিয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে গেছেন লক্ষ্যে। বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ১৬ দলের হয়ে গিয়েছেন থাইল্যাণ্ডে। ‘উয়েফা টুর্নামেন্ট অনুর্ধ্ব ১৬’তে টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটিট্রিক করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন হেলাল। বর্তমানে খেলছেন ঢাকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের ডিফেন্ডার হিসেবে। তবে তাঁর এই সাফল্যের গল্পের পেছনে রয়েছে আরো অনেক গল্প। অনেকবার ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হতে হয়েছে তাকে।

    ২০১৫ সালের সেই ট্রায়ালে জেদের কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় ভাঙা হাত। ভাঙা হাত নিয়েই অংশ নেন বাফুফের অনুর্ধ্ব ১৫ গ্রুপের বাছাইপর্বে। আড়াল করে রাখেন নিজের হাত ভাঙার বিষয়টি। ট্রায়ালে অংশ নেয় প্রায় ৩০০ খুদে খেলোয়াড়। জানানো হয় তাদের মধ্য থেকে নেওয়া হবে মাত্র ৫ জনকে। ফলাফল আসবে ট্রায়াল শেষ হলে । ৩০০ খুদে প্লেয়ার থেকে কোন ৫ জনকে বাছাই করা হয়েছে জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন হেলাল। তিনি ধরেই নিয়েছিলেন ভাঙা হাত নিয়ে এই সৌভাগ্যবানদের একজন হওয়া সম্ভব না। তাই মন খারাপ করে বসে ছিলেন। একে একে ঘোষণা করা হলো সেরা ৫ খুদে খেলোয়াড়ের নাম। সেখানে আছে ‘হেলাল’ নামও! নিজের কানকে যেন সেদিন বিশ্বাস করেতে পারছিলেননা অদম্য ইচ্ছার কিশোরটি।

    IMG-20190905-WA0001

    জানানো হয় বাছাইকৃত সেরা এই ৫ জনকে নিয়ে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করবে বাফুফে। বিষয়টি পরিবারকে জানায় হেলাল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরিবার এ খবর শোনার পর খুশি না হয়ে পড়াশোনায় মনযোগী হতে বলেন। কিন্তু মাথায় তখন তার কেবল ফুটবল। তাই এই বাঁধা আটকাতে পারেনি। পরিবারের অমত থাকা সত্ত্বেও বাফুফের ক্যাম্পে যোগ দেন হেলাল।

    এবার আরও পরিপাটি করে শিখতে শুরু করেন ফুটবল খেলা। যেন ফুটবল নিয়ে শেখার অনেক কিছু এখনো বাকি। সাত দিনের ক্যাম্প শেষে সিদ্ধান্ত হয়। সেই ক্যাম্প থেকে চল্লিশ জনের মধ্যে সেরা দুইজনকে নেওয়া হবে চূড়ান্ত পর্বে। তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকায়। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন। সেই চেষ্টা বৃথা যায়নি। কারণ চুড়ান্ত পর্বে যাওয়া দুইজনের মাঝে একজন ছিলেন হেলাল।

    শুরু হয় তার ফুটবল যাত্রার দ্বিতীয় ধাপ। এবার সোজা ঢাকা সফর। এবারও পরিবারকে বিষয়টা জানান। পরিবারও হয়তো ততোদিনে বুঝে গেছেন ছেলেকে। তাই তাঁরা আর বাঁধা দিলেন না। অন্যদিকে ভাঙা হাত ততোদিনে ঠিক হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে গেলো। এই প্রথমবার খেলার জন্য ঢাকায় আসেন হেলাল। দেখা হয় সারাদেশ থেকে আসা আরও চারশো খুদে ফুটবলারের সাথে। এই চারশো জনকে নিয়ে দুই দিনের ক্যাম্পের আয়োজন করে বাফুফে। বেছে নেওয়া হয় মাত্র চল্লিশজনকে। সেখানেও টিকে যান সংগ্রামী কিশোরটি। ভেবেছিলেন এরপরেই হয়তো বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন।

    কিন্তু বাফুফে তখন সারাদেশ থেকে ছেঁকে খেলোয়াড় বাছাই করছিলো। এই ধারাবাহিকতায় আবারও আয়োজন করা হয় ১৫ দিনের ক্যাম্প। এবার ক্যাম্প সিলেটে। প্রশিক্ষক ছিলেন নূরই-আলম-রাহেল এবং রাজ্জাক আহমেদ। হেলাল যোগ দিলেন ক্যাম্পে। এবার চল্লিশজন থেকে বাদ পড়বেন ২০ জন। ততোদিনে হেলালের ফুটবল নৈপুণ্যতায় অনেকেই মুগ্ধ। ভাবতে শুরু করেছেন হেলালকে নিয়ে। সিলেটে আয়োজিত ক্যাম্পে চল্লিশজন থেকে বিশজন বাদ গেলেন, কিন্তু বাদ গেলেন না হেলাল। টিকে গেলেন এই টুয়েন্টি যাত্রায়ও।

    এবার আর দেশ নয়, বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে বিদেশ যাত্রা! ডাক আসে মালয়েশিয়া ট্যুরের। কিন্তু এতোদিন সহায় থাকা ভাগ্য যেন হঠাৎ নির্মম হয়ে যায় হেলালের জন্য। মালয়েশিয়া ট্যুরের আগে দাঁড়াতে হয় মেডিকেল টেস্টে। সেখানেই আটকে যান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাদ পড়ে যান দল থেকে। ফলে যাওয়া হয়নি মালয়েশিয়া। জেদের কাছে হার না মানলেও এবার ভাগ্যের কাছে হার মেনে মৌলভীবাজারে ফিরে আসেন।

    IMG-20190905-WA0011

    ততোদিনে মৌলভীবাজারেও হেলালের কথা ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মৌলভীবাজারে এসে অংশ নেন ‘সেইলর ফিফটিন টুর্নামেন্ট’-এ। মৌলভীবাজার অনুর্ধ্ব-১৬ দলের দলপতি হয়ে নেতৃত্ব দেন দলকে। কিন্তু প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে পড়ে হেলালদের দল। আবারও ব্যর্থতা জড়িয়ে ধরে তাকে। কিন্তু এই ব্যর্থতার মাঝেই ডাক পান ঢাকায়। এবার ভাগ্য যেন আরও নির্মম হয়ে উঠলো তার। কারণ ঢাকার ডাক পাওয়ার পরপরই ইনজুরিতে পড়ে যান। ঢাকা যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায় তার।

    ইনজুরি কাটিয়ে আবারও যোগ দেন প্র্যাকটিসে। এবার ডাক আসে ‘এনএসএ-১৫ টুর্নামেন্ট’-এ। সিলেট বিভাগীয় টিমের দলপতি হয়ে ঢাকায় যান হেলাল। এবার আবারও নিজের সেই চিরচেনা রূপে ফিরে আসেন। নিজের নেতৃত্ব আর ফুটবল দক্ষতায় দলকে নিয়ে যান সেমিফাইনাল পর্যন্ত। সেমিতে হার মেনেই ফিরতে হয়। ফিরে আসেন মৌলভীবাজারে।

    00000022

    মাঝখানে কেটে গেছে একটি বছর। হেলালের চোখে তখন ফুটবল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে নীলফামারি ক্যাম্পে যোগ দেন। সেখানে ঝালিয়ে নেন নিজেকে। প্রস্তুত হতে থাকেন নেপাল ট্যুরের। অবশেষে আসে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ। শারিরীক অসুস্থতার কারণে মালয়েশিয়া ট্যুর বাদ পড়লেও নেপাল ট্যুর থেকে বাদ পড়েন নি হেলাল। দলকে নিয়ে পাড়ি জমান নেপাল। অনুর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়ানশিপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যান ফাইনাল পর্যন্ত। তখন হেলাল শুধু অনুর্ধ্ব-১৬ দল নয়, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের ভরসার জায়গা। সেই ভরসাকে ভাঙেননি মৌলভীবাজারের হেলাল। ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হেলাল। কিন্তু পরক্ষণেই নিজের ভুলের কারণে গোল হজম করতে হয়। ফাইনাল ম্যাচ গড়ায় ট্রাইবেকারে। দীর্ঘশ্বাস বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৬ দলের কোচের। অবশেষে ট্রাইবেকারে জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দল। জিতে নেয় অনুর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়ানশিপ। হেলালদের এমন নৈপূণ্যতায় বিষ্মিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে দেশে এসে হেলাল এবং তাঁর দল প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পায় উষ্ণ অভ্যর্থনা।

    এখানেই শেষ নয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ‘বর্ষসেরা গোল’ নির্বাচিত হয়েছে হেলালের ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া গোলটি। যেটি তিনি থাইল্যান্ডে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে করেছিলেন। যা ছিলো তার হ্যাটট্রিকের প্রথম গোল।

    হেলালের বন্ধু নিশাদ বলেন, ‘সে একজন অসাধারণ বন্ধুব্যৎসল মানুষ। একদিকে যেমন অনন্য প্রতিভাবান, অন্যদিকে মানবিকবোধসম্পন ও পরোপকারী।’

    ফুটবল মাঠের সতীর্থ নিশাদ বলেন, ‘ফ্রি-কিক থেকে দারুণ গোল করতে পারে হেলাল, তার শুটিংও দুর্দান্ত। আগামীতে সে বাংলাদেশের পক্ষে অনেক বড় জয় এনে দেয়ার সার্মথ্য রাখে।’

    ছেলের এমন কীর্তি দেখে অবাক হয়ে যান বাবা-মাও। মাদ্রাসায় পড়তে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন শহরে। সেই ছেলে আজ নিজের চেষ্টায় বিদেশে দেশকে তোলে ধরছে ভেবে চোখে জল আসে বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনদের। গ্রামের সবার কাছেও হেলাল হয়ে ওঠেন ‘হিরো’। সবাই হেলালকে নিয়ে গর্ব করতে থাকেন।

    হেলালের বৃহৎ পরিসরে খেলার ব্যাপারে বাফুফের বাদল রায়ের সাথে হেলালের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন মৌলভীবাজার ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান। সে মিছবাহুর রহমানের গ্রামের ছেলে।

    অন্যান্যদের মতো গ্রামের ছেলের এমন কীর্তিতে তিনিও খুশি। মিছবাহুর রহমান বলেন, ‘সে আমার গ্রামের ছেলে, অসাধারণ প্রতিভাবান একজন ফুটবলার। তাঁর এই প্রতিভা দেখে উৎসাহ দেই, ঢাকায় যেতে বলি। সে এখন ভালো মানের একজন ফুটবলারে তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো ভালো হবে এমনটাই আশা করি। তবে ওর আর্থিক সমস্যা আছে কিছু। হেলালের এই দিকটাও আমাদের চিন্তায় আছে।’

    এদিকে ততোদিনে হেলালের অজান্তেই ঘটে গেছে অন্য একটি ঘটনা। মালয়েশিয়া ট্যুরের সময় দল থেকে বাদ পড়লেও উদীয়মান এই ফুটবলারকে চোখে চোখে রাখছিলেন ঢাকার স্বনামধন্য ফুটবল ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন। অন্তরালে তাকে দলে ভেড়ানোর সব প্রস্তুতি করে রেখেছিলো ক্লাবটি। তাই ২০১৭ সালে ব্রাদার্স নিউনিয়নের খাতায় নাম লেখান হেলাল। সেখানে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বি টিমের হয়ে খেলছেন তিনি।

    হেলালের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা সদরের একাটুনা ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামে। লেখাপড়া করেছেন প্রথমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে এলাকার একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হন।

    মফস্বল শহর থেকে হেলালের এই পর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার গল্পটা ছিলো পঙ্কিল। বাবা আশিকুর রহমান মারা যাওয়ার পর পরিবারের হাল ধরেন হেলালের বড় ভাই বেলাল আহমেদ। সৌদি যান পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন বেলাল। তাই খেলার থেকে সংসারের দিকটাই হেলালের মাথায় চেপেছিলো বেশি। কিন্তু ফুটবলের ভালোবাসা পরিবারের খারাপ সময়েও ফেলে যায়নি হেলালকে। বলতে গেলে অনেকটা নিজের চেষ্টায় এগিয়ে গেছেন। স্কুলে যখন পড়তেন তখনো ভালো খেলতেন। দুইবার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের স্কুলের হয়ে ফাইনাল জিতেন হেলাল। এমন ফুটবল প্রতিভা দৃষ্টি কেড়েছিলো স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

    স্কুল শিক্ষক বনশ্রী দাশ বলেন, ‘হেলাল আমাদের স্কুলে সেই ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা করেছে। চোখের সামনে ওকে বড় হতে দেখেছি। সেই ছোটবেলাও ভালো ফুটবল খেলতো সে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে তো সে দুইবার দলের নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনাল জিতেছে। সে আজকে একটা ভালো পর্যায়ে আছে, দেখে ভালো লাগছে। আমাদেরই তো ছাত্র ছিলো। ও যেন আরো বেশি দূরে এগিয়ে যেতে পারে এবং বিশ্বের বুকে একদিন বাংলাদেশকে তোলে ধরতে পারে সেই দোয়া করি।’

    পরিবার যখন ফুটবলের বিপক্ষে চলে গিয়েছিলেন একটা সময় ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হেলাল। পরিবারের অমত থাকারও কারণ ছিলো যথেষ্ট। খুব অল্প বয়সেই বাবা হারাতে হয়েছে। আর তাই অভাবের সুক্ষ্ম একটা যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হয়েছে হেলালের মাকে। শুধুমাত্র প্রবাসী বড় ভাইয়ের উপর নির্ভর করে চলতো সংসার। তাই প্রথমদিকে খেলার ব্যাপারে অমত জানায় পরিবার। কিন্তু তাঁর প্রিয় কোচ নূরই-আলম রাহেলের অনুপ্রেরণায় নিজেকে রেখেছেন ফুটবলের সাথে জড়িয়ে। ভাঙা হাত নিয়ে ট্রায়াল দেওয়া এই ছেলেটি একদিন ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলবে সেদিন কেউ হয়তো ভাবেনি। কিন্তু বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের কোচ রাহেলের চোখে ধরা দিয়েছিলেন অন্যভাবে।

    তাই হেলালের স্বপ্নকে সেদিন এগিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় এই কোচ। শিষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে নূরই-আলম রাহেল আইনিউজকে বলেন, ‘হেলাল নিঃসন্দেহে একজন ট্যালেন্টেড প্লেয়ার। কারণ আমরা অনেক খেলোয়াড়কেই প্রশিক্ষণ দেই, বাছাই করি। তারপর তাঁরা একটা জায়গায় পৌছায়। কিন্তু হেলাল এতদূর এসেছে তাঁর নিজগুণে। জীবনে অনেকদূর যেতে সবাইকেই একাগ্র থাকতে হয়। তার মধ্যে আমি সেটা দেখেছি। আশা করি ও অনেক দূর যেতে পারবে।’

    যখন এই লিখাটি লিখছি হেলাল তখন ব্রাদার্স ইউনিয়নের একজন হয়ে মাঠে অনুশীলন করছে। ওর সাথে কথা বলার সময় বলেছিলো ওর স্বপ্ন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে দেশের জন্য খেলবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে হয়তো হেলাল একদিন সত্যি সত্যি বিশ্বমঞ্চে, আরেকটু বড় পরিসরে বুকে হাত দিয়ে গলা মিলিয়ে গাইবে, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১