• শিরোনাম

    বজ্রপাতে এক পরিবারের বাবা-ছেলেসহ ৬ জনের মৃত্যু

    | ০২ জুন ২০২০ | ১:০০ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 287 বার

    বজ্রপাতে এক পরিবারের বাবা-ছেলেসহ ৬ জনের মৃত্যু

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাবা-ছেলে, বোদায় এক মাদরাসাছাত্র, নীলফামারী সদরে এক কৃষক, দিনাজপুরের খানাসামায় এক কৃষক ও সিরাজগঞ্জ সদরে এক কলেজছাত্রসহ বজ্রপাতে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে-

    পঞ্চগড়
    পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও বোদা উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আতাহার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



    সোমবার দুপুরে তেঁতুলিয়ার ভজনপুর ইউনিয়নের খুনিয়াগছ এলাকায় মোহাম্মদ আলী (৫৫) ও তার ছেলে আনিসুর রহমান (৩৫) এবং বিকেলে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নে চিলাপাড়ায় রিপন ইসলাম (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

    স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়ার খুনিয়াগছ এলাকায় বাবা ও ছেলে একসঙ্গে বাড়ির পাশে ধান কাটছিলেন। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

    এদিকে চিলাপাড়া গ্রামের রিপন ইসলাম বাড়ির পাশের একটি খেতে ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে সে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়। রিপন ওই গ্রামের মনসুর আলমের ছেলে এবং সে স্থানীয় একটি মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    নীলফামারী
    নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলায় মজিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার বেলা ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মজিদুল জেলা সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের সহির উদ্দিনের ছেলে ছেলে।

    বজ্রপাতে আহতরা হলেন, কুন্দপুকুর ইউনিয়নের পাটকামড়ী গ্রামের শ্যামল চৌধুরীর স্ত্রী দীপা (২০), রামনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে আব্দুল আউয়াল (১৬) ও টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের মইনুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২২)। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ঘটনার সময় নিহত ও আহতরা বাড়ির বাইরে কৃষি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। প্রচণ্ড বজ্রপাত ঘটলে তারা হতাহত হয়। হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ওসি মোমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    দিনাজপুর
    দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার খানসামা উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেছেন। তিনি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাজীপাড়ার মৃত কছিমদ্দিনের ছেলে ফজলুল হক (৬০)।

    সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মাঠে কাজ শেষে বাড়ির বাইরে টিউবওয়েলে গোসল করতে গেলে ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তিনি মারা যান।

    খামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল হক সাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক ফজলুল হক বাইরে কাজ শেষে বাড়িতে গোসল করতে গেলে বজ্রপাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিরাজগঞ্জ
    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ক্ষেতে কৃষি কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সিরাজগঞ্জের শিয়ালকোল ইউনিয়নে বজ্রপাতে গোলাম হোসেন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা আব্দুস সাত্তার।

    সোমবার (০১ জুন) সন্ধ্যার আগে সদর উপজেলার উত্তর সারটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম হোসেন ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্র।

    শিয়ালকোল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মাঠের কাজ শেষে কৃষক আব্দুস সাত্তার তার ছেলে গোলাম হোসেনকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে বাবা-ছেলে দুজনেই শরীর ঝলসে গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে গোলাম হোসেন মারা যায়। তার বাবা আব্দুস সাত্তারকে গুরুতর অবস্থায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ঈদযাত্রায় নিহত ২৫৩

    ১৮ আগস্ট ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১