• শিরোনাম

    প্রিয় অভিভাবকদের মৃত্যু ও কিছু কথাঃ

    সিলেট প্রতিনিধিঃ | ১৫ জুন ২০২০ | ৮:২৫ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 449 বার

    প্রিয় অভিভাবকদের মৃত্যু ও কিছু কথাঃ

    সিলেট প্রতিনিধিঃ রাজনীতি করিনা আজ প্রায় ১০ বছরের বেশী।বিগত ১০ বছর ধরে আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী।স্বাভাবিক ভাবেই চাকুরী বিধি অনুযায়ী আমার রাজনীতি করার অধিকার নাই।আমি প্রজাতন্ত্রের সেই নিয়মকে মেনে নিয়েই আমার পেশাদারী জীবন অতিবাহিত করছি।বর্তমানে আমি সম্পূর্ন ভাবে রাজনীতি মুক্ত একজন মানুষ।

    সময়টা ১৯৯৬ সাল,আমি তখন কানাইঘাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের একজন ক্ষুধে কর্মী।তখনকার সময় কানাইঘাটের ছাত্ররাজনীতির একটি শক্তিশালী ইউনিট ছিলো কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। আমরা স্কুল ছাত্রলীগের কর্মী হিসাবে প্রায়ই মিছিল নিয়ে কানাইঘাট বাজার উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে যোগ দিতাম।



    তখন দেশ জুড়ে চলছে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্টার দাবীতে অসহযোগ আন্দোলন। সেই আন্দোলনে শেখ হাসিনার পাশে থেকে যেসব সম্মুখসারীর যোদ্ধা আওয়ামীলীগের এই আন্দোলনকে সফল করেছিলেন তাদের অন্যতম তৎকালীন সময়ের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ,জিল্লুর রহমান,আব্দুর রাজ্জাক,আব্দুল জলিল,তোফায়েল আহমদ,আমির হোসেন আমু,

    সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত,মতিয়া চৌধুরী,তৎকালীন অবিভক্ত ঢাকার মেয়র মোঃ হানিফ,মোঃ নাসিম,চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী,সিলেট পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন আহমদ কামরান,মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া,ওবায়দুল কাদের প্রমুখ।এদের সবার দুঃসাহসিক নেতৃত্ব,পারষ্পরিক সমন্বয় এবং রাজনীতি ও আন্দোলনের কৌশলগত পরিচালনা আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করিয়েছিলো।

    ১৯৯৬ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারী তৎকালীন বিএনপি সরকারের অধীনে যে নিবার্চন হয়েছিলো সেই নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির ক্ষমতায় থাকার ইতিহাস ছিলো মাত্র দেড় মাস। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে দেশব্যাপী গড়ে উঠা তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ মাত্র দেড় মাসের মাথায় তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।

    পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ১২ ই জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়।
    সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গঠন করে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়।

    পরবর্তীতে (২০০১-২০০৬) বিএনপির নেতৃত্বে ৪ দলীয় ঐক্যজোট সরকার ক্ষমতায়। দেশে তখন চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজমান।সারা দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্টীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিলো।২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা,১৭ আগষ্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা সহ অনেক হামলা মামলা এই সময়ে হয়েছিলো।

    এই সময়ে বোমা ও গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার,সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ কিবরিয়া,কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমান, খুলনার মঞ্জুরুল ইমাম,নাটোরের মমতাজ উদ্দিন,বাগেরহাটের কালিদাস বড়াল সহ অসংখ্য অগনিত আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।তৎকালীন সরকার এসব জাতীয় নেতার জীবনের নিরাপত্তা এবং হত্যা পরবর্তী ন্যায় বিচারে ব্যার্থ হয়েছিলো।

    সেই সকল হত্যার বিচারের ব্যাপারে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন উপরে উল্লেখিত সেই আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।পরবর্তীতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে আন্দোলন।সেই আন্দোলনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন সেই নেতৃবৃন্দরাই।তাদের নেতৃত্ব দানের সঠিকতা আওয়ামীলীগকে আবারো সফলতা এনে দিয়েছিলো এবং সেই সফলতার পথ ধরে আওয়ামীলীগ ধারাবাহিকভাবে আজ তিন মেয়াদে ক্ষমতায়।

    এরা সকলেই আওয়ামীলীগ এর প্রাণ এবং সফল জাতীয় নেতা।এরা সকলেই একেকটা স্থম্ভ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার পরম আস্থাভাজন।এদের সবার সাথে এদেশের গণমানুষের ভালোবাসা রয়েছে।এদের প্রায় সবাই ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা দুজনের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগের কান্ডারী।আজ তাদের দুই একজন ছাড়া প্রায় সবাই স্রষ্টার ডাকে সারা দিয়ে পরপারে চলে গিয়েছেন।

    সর্বশেষ চলে গেলেন তিন জাতীয় নেতা মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে।তারা তিনজন হলেন সাবেক মন্ত্রী মোঃ নাসিম,সাবেক মেয়র কামরান ও বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ।

    এদের তিনজনের প্রথম জন মোঃ নাসিম।জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সুযোগ্য সন্তান তিনি।তিনি ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার ষ্ট্রাইকিং ফোর্সের অন্যতম যোদ্ধা।দল ও দেশের প্রশ্নে আপোষহীন এক যোদ্ধা ছিলেন মোঃ নাসিম।ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্টায় রাজপথে যৌক্তিক আন্দোলন পরিচালনার অনন্য কারিগর ছিলেন শেখ হাসিনার এই বিপ্লবী যোদ্ধা।জেল খেটেছেন বারবার, নির্যাতিত হয়েছেন বারবার।

    তবুও অন্যায়ে আপোষ করেন নি।অন্ধকার কালোরাতে কারো কাছে বিক্রি হয়ে যাননি।যারা মাঠে থাকলে অনায়াসে আন্দোলন জমে যেতো,তাদের একজন জাতীয় নেতা নাসিম।দেশপ্রেমী এই জাতীয় নেতা গত কয়েক ঘন্টা আগে দেশবাসী ও আওয়ামীলীগকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন।কিছু বেয়াদব এই জাতীয় নেতার মৃত্যুকে নিয়ে ট্রল করছে।যারা ট্রল করেছে তারা জানতো মোঃ নাসিমের মতো আপোষহীন নেতাদের কারনেই আজকের আওয়ামীলীগ হেট্রিক ক্ষমতায়।এরা দিনের আওয়ামীলীগ আর রাতের বিএনপি ছিলেন না।

    এরা প্রকৃত যোদ্ধাই ছিলেন বলেই তাকে নিয়ে বিরোধী পক্ষের ট্রল করা স্বাভাবিক।তারা জানে মৃত মানুষকে নিয়ে ট্রল করা কোন ভাবেই ঠিক নয় তবুও করছে।তার একটিই কারন।আর সেই কারনটি হচ্ছে, তিনি একজন আপোষহীন সংগ্রামী নেতা।আজকের প্রজন্মের যারা ছাত্ররাজনীতি করছে,তাদের প্রত্যেককেই একেকজন নাসিম হওয়া চাই।

    জননেতা নাসিমের আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন পড়ুন, জানুন ও অনুসরন করুন। দেখবেন, আপনিও সত্যিকারের রাজনীতিবিদ হয়ে গেছেন।আমি বিগত ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি কমবেশী বুঝি।আমার রাজনীতি বুঝার এই দীর্ঘতমে সময়ে বাংলাদেশের একজন সঠিক ও অনন্য রাজনীতিবিদ মোঃ নাসিম।তার শূন্যস্থান কিছুতেই পুরনীয় নয়।

    অপরজন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান- সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন নেতা।সিলেটের আপামর জন সাধারনের মনস্থাত্বিক অভিভাবক এই কামরান। রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তিনি ছিলেন দল মতের উর্দ্ধে সমগ্র সিলেটবাসীর ভালোবাসার নেতা।বৃহত্তর সিলেটের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছুটে গিয়েছেন মাটি ও মানুষের টানে।

    অত্যন্ত মিষ্টভাষী ও অমায়িক এই নেতা সবসময় সক্রিয় ছিলেন জাতীয় ও স্থানীয় অধিকার আদায়ের আন্দোলনে।সক্রিয় ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে।

    বিগত ২৫ বছর ধরে এই নেতাকেও চিনি।আমি দেখেছি জননেতা কামরান ভাইয়ের নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির সঠিক নির্দেশিত পথের অনুসরনের সঠিকতাকে।আমরা যখন যেকোন মিছিল সহকারে কোর্ট পয়েন্ট,রেজিষ্ট্রারী মাঠ,আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ কিংবা শহীদ মিনারে প্রবেশ করতাম,আমরা দেখতাম জনতার কামরান ভাই সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং হাত তুলে করতালির মাধ্যমে আমাদের স্বাগত জানাচ্ছেন।

    সিলেটবাসীর প্রিয় সেই নেতা কামরানও দুইহাজার বিশের করোনার মৃত্যুর মিছিলে শরীক হয়ে সবাইকে কাঁদিয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।যে কামরানকে ১০০ মিটার দুর থেকেও চিনা যেতো,সেই জনতার কামরানকে আর সিলেটের কোথাও পাওয়া যাবেনা।সিলেটের সর্বস্থরের মানুষ ও সিলেটের আওয়ামীলীগ এই শূন্যস্থান কখনোই পূরন করতে পারবেনা।

    পরিশেষে বলবো,মানুষ মরনশীল জাতি।মৃত্যুর স্বাদ আমাদের সবাইকে গ্রহন করতেই হবে।তবে কিছু মৃত্যু দেশের কোটি কোটি মানুষকে কাঁদায়।মানুষ তাদের মৃত্যু মেনে নিতে পারেনা সহজে।নাসিম ভাই,কামরান ভাইও এমন দুইজন মানুষ- যাদের মৃত্যুশোক এদেশের অসংখ্য মানুষকে মানসিক ও আবেগিক ভাবে প্যারালাইসড করেছে।আমরা এই জাতীয় নেতাদের মৃত্যু শোকে শোকাহত।মহান সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদেরকে এই শোক সহ্য করার ক্ষমতা দেন।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ‘আমার ফাঁসি চাই’

    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১