• শিরোনাম

    প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বাড়ির রাস্তা ইটসলিংয়ের চেষ্টায় কুলাউড়ায় উত্তেজনা

    | ১৪ জুলাই ২০২০ | ৬:৩৭ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 285 বার

    প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বাড়ির রাস্তা ইটসলিংয়ের চেষ্টায় কুলাউড়ায় উত্তেজনা

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে জেলা পরিষদের প্রকল্পে উল্লেখিত স্থান মৌখিক পরিবর্তন করে বিএনপি নেতার বাড়ির রাস্তা করে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী ।

    এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ২ গ্রামের জনসাধারণের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।কিন্তু জনগণের আপত্তি গ্রাহ্য করতে না রাজ তিনি । অভিযোগ রয়েছে সম্প্রতি ওই প্রকৌশলী স্থানীয় বিএনপি সভাপতির আত্মীয় উক্ত কাজের ঠিকাদারকে নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার পাশাপাশি নিজে লাভবান হয়ে এসেছেন। এরপর থেকে এলাকার কারো কথাই তিনি শুনতে না রাজ ।



    সরেজমিন জানা যায় হাজীপুর ইউনিয়নের মাতাবপুর রবিদাস বাড়ি থেকে পলক নদী পর্যন্ত একটি সরকারি রাস্তা রয়েছে।এই রাস্তা দিয়ে ৪০ টি রবিদাস পরিবারের লোকজন সহ তুকলি মাতাবপুর গ্রামের লোকজন ধানি জমি ও পলক নদীতে যাতায়াত করেন । বর্ষায় একটু বৃষ্টি হলে রাস্তাটি কাদাযুক্ত হয়ে যাওয়ায় রবিদাস পরিবারের লোকজন মৃত ব্যক্তির লাশ সৎকার করার জন্য পলক নদীতে লাশ নিয়ে যেতে পারেন না।

    বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান কে জানালে জনগনের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যানের আব্দুল বাছিত বাচ্ছু মাতাবপুর রবিদাস বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি ইট সলিং করার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই রাস্তা ইটসলিং করার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এক লক্ষ্ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেন। গত ১১ জুলাই শনিবার রাস্তাটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিলো।

    এলাকার তবারক আলী, মোমিন আলী, সুন্দর আলী, ফররুখ মিয়া সহ অনেকে জানান ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার শামীম আহমদ আকস্মিক ভাবে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফারুক আহমদ পান্নার বাড়িতে গিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরদিন জানান নির্ধারিত রাস্তায় কাজ না করে তিনি উক্ত বিএনপি নেতার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তায় কাজ করবেন।

    এতে ওই এলাকার লোকজন ফুসে ঊঠে।বিষয়টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আজিজুর রহমান মহোদয়কে জানালে তিনি সহকারী প্রকৌশলী এলাকায় গিয়ে পরিদর্শন পুর্বক প্রকল্প মোতাবেক কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়ে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি হাজী আকবর আলী জানান রবিদাস বাড়ি থেমে পলক নদী রাস্তাটি সরকারি।

    অপর দিকে পান্নার বাড়ির লোকজন যাতায়াত করেন সাবেক চেয়ারম্যান সত্য বাবু, সাবেক মেম্বার আতাউর রহমান কদ্দুস, মাতাবপুর গ্রামের এবাদ উল্ল্যাসহ কয়েক মালিকের জমির উপর দিয়ে। তুকলি গ্রামের সর্দার আব্দুস সোবহান বলেন সরকারি রাস্তা বাদ দিয়ে কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন জমিতে সরকারি টাকায় রাস্তা করা হলে জনগণ মেনে নেবে না।

    ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু জানান এলাকার লোকজনও ভোগান্তি লাগবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাস্তাটি ইট সলিং করার আবেদন করি। বরাদ্দ দেওয়া টেন্ডার আহবান সবই ঠিক আছে। কিন্তু হঠাৎ করে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী কি স্বার্থে শতাধিক পরিবারের কথা চিন্তা না করে মাতাবপুর গ্রাম ছেড়ে মনুবাজারে গিয়ে বিএনপি সভাপতিসহ ২ পরিবারের বাড়ির রাস্তা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তা আমার বোধগম্য নয়। এ নিয়ে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় তাকেই বহন করতে হবে।

    হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ পান্না জানান সিডিল মোতাবেক কাজ করা হবে এখানে শুধু আমার বাড়ী নয় প্রবীন আওয়ামীলীগনেতা মরহুম আমজদ উল্ল্যা সাহেব ও মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল মিয়ার বাড়ী এবং মনু ডাকঘর রয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান যে রাস্তার কথা বলছেন সেই রাস্তা অনেক আগেই ইটসলিং করা হয়েছে। এখানে কোন উত্তেজনা বা সিডিলের বাহিরে কাজ করার কোন সুযোগ নেই।

    এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী কে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০