• শিরোনাম

    পতনঊষার, হাজীপুর ও শরীফপুরবাসীর উদ্দেশ্যে : শিক্ষক মুজিবুর রহমান

    | ১৩ নভেম্বর ২০২০ | ৬:৪১ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 321 বার

    পতনঊষার, হাজীপুর ও শরীফপুরবাসীর উদ্দেশ্যে : শিক্ষক মুজিবুর রহমান

    ঐক্য গড়তে পারলে একটি নতুন উপজেলা আমাদের সকলের হাতের মুঠোয়।আর বিছিন্ন দাবী করলে এই ইউনিয়নগুলো আজীবন থাকবে উন্নয়ন বঞ্চিত।আর ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা রেখে যাবো অবহেলিত করে।

    শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা, খেলাধুলা, রাজনীতি ও যোগাযোগের মিলন ক্ষেত্র এবং পাকিস্হান আমল থেকেই সিলেট বিভাগের তথা বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি নাম শমশেরনগর।আর এ পরিচিতির কারনেই সরকার বারবার শমশেরনগরকে উপজেলা বানাতে উদ্যোগ নেয়।



    শমশেরনগর উপজেলা হলে লাভ হতো এই তিন ইউনিয়নেরই বেশি।কারন একসময় সরকারি থানাভবন, হাসপাতাল, ইউএনও অফিসসহ শখানিক অফিস স্থাপিত হতো এয়ারপোর্ট, রেলগেট ও ধোপাটিলা থেকে শুরু করে উসমানগড় পযর্ন্ত রাস্তার দুইসাইডে ।

    হাজীপুরের ২৫ কিলোমিটার দূরে কুলাউড়ার পরিবর্তে ২ কিলোমিটারেরও পার্শ্ববর্তী থেকে উপজেলার সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারতো।আর পতনঊষারবাসী ১৫ কিমি.দূরবর্তী কমলগঞ্জের পরিবর্তে ১ কিমি. মধ্যে উপজেলার সকল সুবিধা ভোগ করতো। আর শরীফপুরবাসী ৫০কিমি থেকে ১০কিমি কাছে উপজেলার কাজকর্ম সাঙ্গ করতে পারতো।

    থানা হলে একসময় উপজেলা হতো আর উপজেলা হলে এমনিতেই হাসপাতাল, সাবরেজেস্টার অফিস, ফায়ার সার্ভিস, ইউএনও অফিসসহ, সব সরকারি ব্যাংকের শাখা, সকল ট্রেনের স্টপেজ সহ শখানেক অফিস প্রতিষ্ঠান শমশেরনগর এবং ওসমানগড় মিলে স্হাপিত হতো।এগুলো বেশিরভাগই আপনাদের আশেপাশে হতো।

    নতুন প্রজন্মের হাতের কাছে সব সুবিধা থাকত।যার সুফল ভোগ করতো এই চার ইউনিয়নের জনগন।আপনাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে বারবার থানার এবং উপজেলার প্রস্তাব বাতিল হচ্ছে।

    ১৯৫৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পযর্ন্ত বারবার উপজেলার প্রস্তাব আপনাদের কারনে বাতিল হচ্ছে।অনেক মানুষ উপজেলার স্বপ্ন নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, আপনারাও এভাবে বিরোধীতা করে করে একসময় বিদায় নিবেন আর বঞ্চিত করে যাবেন ভবিষ্যত প্রজন্মকে।

    অথচ আপনাদের একটু সহযোগিতায় এ এলাকার মানুষ সুবিধা পেত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা, জাগার উপযুক্ত দাম, বেকারত্ব থেকে মুক্তি, রাত পোহালে ৫-৬ টি ইউনিয়নের মানুষের আনাগুনায় ভরপুর থাকতো।

    হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সকলে কি এক হওয়া যায়না।সবাইকে বুঝতে হবে লাভ এখানে সবার হবে শুধু শমশেরনগরের একা নয়।শমশেরনগর শুধু নাম আর বাকী সব সুবিধা পতনঊষার আর হাজীপুরের।

    এক সময় সাইফুর রহমান শমশেরনগর উপজেলা ঘোষণা দিলে গুটি কয়েক লোক উসমানগড় নাম নিয়ে বাধা দেয়ায় শমশেরনগর উপজেলা হতে পারলোনা। তারও পূর্বে ভানুগাছের প্রভাবশালী এমএলএ শমশেরনগরের প্রস্তাবিত নাম বাদ দিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা করলেন, তখনও বঞ্চিত হলো শমশেরনগর।

    বারবার শমশেরনগর এভাবেই বিরোধিতার শিকার হয়ে সেই ইউনিয়নই রয়ে গেল। শমশেরনগরকে ভালবাসতেন এবং থানা বানাতে চেয়েছিলেন সেই সাইফুর রহমান আর নেই, সৈয়দ মহসিন আলীও বেঁচে নেই।

    সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের ঐকান্তিক চেষ্টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শমশেরনগর এনে এই এলাকায় একটি থানা করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা এই তিন ইউপির কিছুলোক গণশুনানীতে অসহযোগিতার কারনে বঞ্চিত হল এ ৫ ইউনিয়ের লক্ষ লক্ষ মানুষ।

    বেশি বঞ্চিত হলো এই ৩ ইউপি।পতনঊষার ও হাজিপুরবাসী সহযোগিতা করলে অনেক আগেই শমশেরনগর উপজেলা হয়ে যেত।

    আর উসমানগড় এলাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভরপুর হয়ে সাজানো গুছানো একটি আবাসিক এলাকা হয়ে যেত। রাত পোহালেই শমশেরনগর দরকার অথচ শমশেরনগরের বিরোধীতা করে সবাই এখন নিজ নিজ এলাকায় থানা বানাতে গিয়ে আজ থানা ও উপজেলার প্রস্তাবটি এখন ফাইলবন্ধি।

    উন্নত এলাকা ছাড়া সাধারণত উপজেলা হয়না।এভাবে উসমানগড় বা হাজিপুর না বুজে শমশেরনগরের বিরোধীতা করে তারা নিজেরাও উন্নত হতে পারবেনা এবং শমশেরনগরের জন্য প্রস্তাবিত উপজেলাও বারবার বাধা পাবে।

    শমশেরনগরবাসী শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িকে থানায় উন্নতকরন চেয়ে সরকারের নিকট আবেদন করলে, সরকার সেই আবেদন আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজারকে এর প্রয়োজনীয়তা আছে কি না যাচাই করার নির্দেশ দেন।

    তারই ধারাবাহিকতায় চলছিল গণশুনানী। গনশুনানিতে সবাই স্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলায় আরেকটা থানা হওয়া একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু কিছু লোক না বুঝে শমশেরনগরের বিরোধীতা করলো।

    শমশেরনগর কি আছে আর কি নাই,সিলেট বিভাগের ভৌগলিক অবস্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে যারা জ্ঞাত আছেন অবশ্যই জানবেন।শমশেনগরে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম দুই সঙ্গী হযরত শাহ কালা (রঃ) ও হযরত শাহ মালিক গাজী (রঃ) শায়িত আছেন,

    এছাড়াও আছেন আরো অসংখ্য পীর আউলিয়া,৩টি হাইস্কুল, গার্লসস্কুল, কিন্ডারগার্টেন স্কুল,বিএএফ শাহীন স্কুল এন্ড কলেজ,যা সিলেট বিভাগের অন্যতম সেরা, আছে ২টা জুনিয়র হাইস্কুল, সুজা মেমোরিয়াল কলেজ, দাখিল ও হাফিয়া মাদ্রাসা।

    আছে ব্রাক, গ্রামীন, আশা, ব্যুরো, সোনালী ও পূবালী, ব্রাক,ডাচবাংলা,কমার্স ব্যাংকসহ আরও অসংখ্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।।শতবছরের ঐতিহ্যবাহী বিমান ঘাঁটি, বিমানবাহিনীর ট্রেনিং সেন্টার,চা বাগান , রেলওয়ে স্টেশন।শমশেরনগর বাজার তো আছেই যেখানে কত বড় বড় সপিং মল যা জেলা সদরের চেয়েও কম নয়।

    জনসংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।ক্যামেলিয়া ও শ্রমিক কল্যান হাসপাতাল, ইসলামিকমিশন, জনমিলন কেন্দ্র, নান্দনিক ডাকবাংলো, কাস্টম অফিস,আগেরকার সময়ের বিনোদনের মাধ্যম সিনেমাহল, ৪টি কমিউনিটি সেন্টার, দুটি বিশাল খেলার মাঠ,সুইস ভ্যালি রিসোর্ট, রেস্ট হাউস,বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকা।

    আছে বিভিন্ন আলিশান বাসা-বাড়ী যা দেখলে মনেই হবেনা শমশেরনগর একটি ইউনিয়ন মাত্র। ডিসি,এসপিসহ যে কোনো কর্মকর্তা শমশেরনগর আসলে তারা অবাক হন যে শমশেরনগরের মতে একটি শহর কেন এখনো উপজেলা বা থানা হলোনা। শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ী কে থানায় উন্নত করতে প্রত্যেক ডিসি ও এসপি মহোদয় সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন।

    কিন্তু গণশুনানীতে বিপক্ষে মতামত দেয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে গেল।
    তাই আর বিরোধিতা নয়,বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আসুন এক হয়ে দাবী তুলি শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িকে থানায় উন্নত করে এই এলাকায় একটি প্রশাসনিক উপজেলা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।
    সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, এই প্রত্যাশায়——-

    মোঃ মুজিবুর রহমান
    (এডি, এমএসএস, এমএড),
    সিনিয়র শিক্ষক,
    আলী আমজাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
    মৌলভীবাজার সদর,

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ‘আমার ফাঁসি চাই’

    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০