• শিরোনাম

    ‘পছন্দের ক্যাডারগুলোতে রোল নম্বর খুঁজে পাচ্ছিলাম না, ছিল পুলিশ ক্যাডারে’

    বিডি জনপ্রত্যাশাঃ | ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৪:২৯ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 498 বার

    ‘পছন্দের ক্যাডারগুলোতে রোল নম্বর খুঁজে পাচ্ছিলাম না, ছিল পুলিশ ক্যাডারে’

    বিসিএসের ফলাফলে পছন্দের ক্যাডারগুলোতে নিজের রোল নম্বর কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। হতাশ হয়ে ধরেই নিয়েছিলেন বিসিএস হয়নি তার। তারপরে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের তালিকায় নিজের রোল দেখতে পান বাংলাদেশ পুলিশের চৌকষ কর্মকর্তা এআইজি সহেলী ফেরদৌস।

    পুলিশ ক্যাডার পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকে না থাকলেও বর্তমানে দক্ষতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরে গর্বিত এ নারী। কর্মরত আছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে কমিউনিটি পুলিশিং এর এআইজি হিসেবে।



    নিজের পেশা নিয়ে গর্বিত এ নারী কাজের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের উপকার করতে পারায় তৃপ্ত। নিজের পেশার সার্থকতা খুঁজে পান মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে।

    বিসিএসের তার অনুপ্রেরণা ছিলেন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মা। বড় হয়ে চাকরি করতে হয়, এ ধরনের বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে বড় হয়েছেন মাকে দেখে। শুধু মেয়ে হয়ে বা চাকরিহীন হয়ে থাকার বিষয়টি ভাবতে পারেননি কখনো।

    বেড়ে ওঠা খুলনা শহেরে। সেখান থেকে এসএসসি পাশের পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ। ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে যোগ দেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে। তবে ছোটবেলায় মাথার ভেতরে চাকরির আকাঙ্খা থাকলেও পুলিশ হতে হবে এ ধরণের কোনো আকাঙ্খা ছিলো না।

    বিসিএসে যোগদানের পর সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণে গিয়ে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে সমান দক্ষতায় প্রশিক্ষণের সবগুলো ধাপ সম্পন্ন করেছেন। মেয়ে বলে সেসময় বিশেষ কোনো সুবিধা দেয়া হয়নি তাদের।

    ব্যক্তিজীবনে দুই সন্তানের জননী। ঘরে বাইরে সমান দাপুটে সেহেলী। যেহেতু পুলিশের মত একটি চ্যালেঞ্জিং পেশায় রয়েছেন। দিনশেষে যখন বাড়ি ফেরেন তখন সারাদিনের চাপের কিছুটা প্রভাব সংসারেও পড়ে। স্ত্রী হিসেবে সেহেলীকে পেয়ে স্বামী এবিএম হুমায়ূন কবির বেশ সন্তুষ্ট। অনেক বিষয়েই স্ত্রীর উপর চাপিয়ে থাকতে পারেন নির্ভার।

    জীবনের চ্যালেঞ্জের নানা গল্প বলতে গিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে সেহেলী তুলে ধরেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের  রায়ট কন্ট্রোল ডিভিশনের (বর্তমানে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেনন্ট) প্রধান থাকাকালের একটি ঘটনা। শিল্প এলাকাগুলোতে তখন শিল্প পরিবেশ তৈরী হয়নি। সেসময় ডিভিশনের হেড হিসেবে গিয়েছিলেন দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে। সেদিন তার সাথে এএসপি বা এডিশনাল এসপিও কেউ ছিলেন না। সেসময় একটি জুটমিলে দুবৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলো। সেহেলী যখন সেখানে পৌঁছেন তখন তার সাথে বয়জ্যেষ্ঠ কয়েকজন এসআই ছিলেন। এই গণ্ডগোলের ভেতরে তারা যাবেন কী না সে বিষয়েও ছিলেন সন্দিহান, ভয় পাচ্ছিলেন। তখন এই সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা বলেছিলেন, আমাকে ফলো করো। তারপর সেখানে গিয়ে এই সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    নারী দিবসে নারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সেহেলী বলে: নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। শুধুমাত্র কর্মজীবী নারীদেরই মূল্যায়ন করলে হবে না। যে গৃহিনী যে শক্ত হাতে সংসার চালাচ্ছে। তাকেও স্যালুট করতে হবে। যে ঘরে বাইরে দুটোই সামলাচ্ছে সে প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু যে নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি ঘরেই থাকবো এবং আমার পরিবারকে সময় দেবো। সেও কোনো অংশে কম না। নারী যে অবস্থানেই থাকুক না কেনো তার যে অবদান সেটাকেই মূল্যায়ন করা উচিৎ।

    আমি যেহেতু নারী আমাকেই আমার অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হতে হবে। ইতিবাচক আচরণ নিয়ে নিজের কাজগুলো করে যেতে হবে। যাতে আমি যে পেশায়ই থাকি না কেনো আমার কাজটি যাতে মূল্যায়ন করা হয়। সেভাবেই নিজেকে তৈরি করতে হবে।

    ২০১৮ সালের আগস্টে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং শাখায় যোগ দেন। এরপর জাতিসংঘ এবং ব্র্যাকের সঙ্গে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধবিষয়ক সতর্কবার্তা প্রণয়ন এবং তা প্রচারের কৌশল নির্ধারণে দুটি জেলায় কর্মশালার আয়োজন করেন। তার এই উদ্যোগের ফলে নভেম্বর মাসে জয়পুরহাটে একজন ‘জঙ্গিকে’ গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

    সহেলী ফেরদৌস ২০১৮ সালেও পুলিশ পদক অর্জন করেন। তিনি ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে আইজি ব্যাজ পেয়েছেন।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১