• শিরোনাম

    ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারাই বেশি বেকার

    | ১৪ মার্চ ২০২০ | ৩:০৪ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 238 বার

    ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারাই বেশি বেকার

    দেশে শিক্ষিত বেকরাদের মধ্যে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যাই বেশি। এর মধ্যে ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ চিকিৎসক ও প্রকৌশলী বেকার। মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া নারী শিক্ষার্থীদের বেকারত্বের হার ৩১ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)’র সর্বশেষ শ্রম জরিপে এমন তথ্য উঠে আসে।

    এদিকে ২০১৯ সালের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতের ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশই বেকার। দেশের স্নাতক (এমবিবিএস-বিডিএস) শেষ করা চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের বেকারত্ব নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। দেশ রূপান্তর’র এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।



    তেমনি একই বেকার সাদিয়া সায়রা। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে ২০১৬ সালে বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) পাস করেন তিনি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শেষ করেন দুই বছরের ইন্টার্নি। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নির সময়কালে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে সম্মানী দেয় সাদিয়াকে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে মেডিকেল অফিসার (এইচএমও) হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানেই কাজ করেন তিনি। তবে সেটি ছিল বিনা পারিশ্রমিকে। এক বছর দায়িত্ব শেষে বর্তমানে উচ্চতর (এফসিপিএস) ডিগ্রির ভর্তি কোচিং করছেন তিনি।

    এ বিষয়ে সাদিয়া বলেন, ‘আমার বন্ধুদের মধ্যে যারা জেনারেল বিষয়ে পড়াশোনা করেছে তাদের সবাই এখন চাকরি করছে। এক্ষেত্রে আমি ভিন্ন। এখনো পরিবার থেকে টাকা নিয়ে কোচিং করছি, হাত খরচ নিচ্ছি। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষা দিতে অনেক টাকা দরকার। ভর্তি হলে আরো টাকা দরকার। সবই নিতে হবে পরিবার থেকে, যা ভীষণ লজ্জার! তাই ভাবছি ডাক্তারি না করে হেলথ রিলেটেড গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবো।’

    বিবিএস’র তথ্য মতে, দেশের ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ চিকিৎসক ও প্রকৌশলী বেকার। মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া নারী শিক্ষার্থীদের বেকারত্বের হার ৩১ শতাংশ। তালিকায় মেডিকেল ও প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তুলনায় কম বেকার রয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীরা। আর ১০ দশমিক ২৫ স্কোর নিয়ে সাধারণ স্নাতক ডিগ্রিধারীরা চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের চেয়ে আরো ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

    এ বিষয়ে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কেএএস মুর্শিদ বলেন, ‘ডাক্তার ও প্রকৌশলীরা বেকার কথাটা ঠিক নয়। তারা হয়তো পছন্দসই চাকরি পাচ্ছেন না। এটা বেকারত্ব নয়। যারা চাকরি পায় তারা আবার গ্রামে যেতে চায় না। মফস্বলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এমবিবিএস পাস করা একজন ব্যক্তি চাইলে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করতে পারে। তবে প্রকৌশলীদের ব্যাপারটা ভিন্ন।’

    দেশে চিকিৎসকের ঘাটতির থাকার পরেও চিকিৎসকদের বেকারত্বের হার বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়ম মতে, প্রতি এক হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একজন চিকিৎসক থাকতে হয়। সেখানে বাংলাদেশে আছে প্রায় তিন হাজার লোকের জন্য একজন চিকিৎসক। দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি হিসাবে ধরলেও মোট ১ লাখ ৬০ হাজার চিকিৎসক প্রয়োজন। ফলে চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসক ঘাটতি রয়েছে দেশে।

    এদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) হিসাবে, স্বাধীনতার পর থেকে স্নাতক শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছেন প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী। যদিও তাদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে দেশে এখন সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোতে চিকিৎসক আছেন ৩০ হাজারের মতো।

    বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন সিলেবাস পড়ে আসা ছেলেমেয়েরা বেকার থাকছে এটা হতাশার। মূলত চিকিৎসা খাতে নানা অনিয়মের কারণে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গার্মেন্টস ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মীর সংখ্যা হিসাব করে ডাক্তার নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়া ডাক্তারদের নিজেদেরও স্বনির্ভরতার পথ খুঁজতে হবে।’

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০