• শিরোনাম

    ঝিনাইদহ জাতীয় শোক দিবস পালিত

    | ১৫ আগস্ট ২০২০ | ৭:২১ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 234 বার

    ঝিনাইদহ জাতীয় শোক দিবস পালিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী।জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে দিনটি।

    তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।



    দিবসটি উপলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সবুজের সমারোহে ঘেরা নিভৃত পল্লীর,মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিবেদিত প্রাণ ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত স্নেহভাজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ শমশের আলীর স্মৃতিবিজড়িত শমশের নগরে যথাযথ মর্যাদা ও ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে জাতীয়করণে প্রক্রিয়াধীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনকৃত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালোপতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও উপস্থিত সুধিজনদের কালোব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ই আগষ্টে শহীদের ভাস্কর্যে মাল্যদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়াও;সকল শহীদের ভাস্কর্যে ফুলের পাপড়ি অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।দিবসটি উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারের জন্য সংগৃহীত জাতির পিতার ভাস্কর্যসহ;১৫ই আগষ্টে নিহত সকল শহীদের ভাস্কর্য শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কলেজের শহীদ বেদীতে নিয়ে আসা হয়।

    শুরুতেই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জনাব ডাঃ রাশেদ শমশের কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ মোঃ সফিকুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ১৫ই আগষ্টে শহীদদের ভাস্কর্যে মাল্যদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।এরপর একে একে অধ্যক্ষ মোঃ সফিকুল ইসলাম ও শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ই আগষ্টে শহীদদের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।মাল্যদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জনাব ডাঃ রাশেদ শমশের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ;সকল শহীদদের ভাস্কর্যে ফুলের পাপড়ি অর্পণ করেন পরম শ্রদ্ধায়।

    পরে জাতীয় শোক দিবস উপলে কলেজ অডিটরিয়ামে মুজিব শিরোনামে এক রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারি বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জনাব ডাঃ রাশেদ শমশের।

    অধ্যক্ষ মোঃ সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ রাশেদ শমশের বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু হয়। গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারের ইতিহাস রচিত হতে থাকে।তিনি বলেন,১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

    পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ ও মেয়ে বেবি, সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রা পান।

    সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি আজও যারা পলাতক তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদ- কার্যকর করা এবং নৃশংস এই হত্যা যোগ্যের নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনের দাবি তুলে ধরেন বর্তমান সরকারের কাছে।

    সমাপনী বক্তব্যে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন,বঙ্গবন্ধু পরাধীন বাঙালি জাতিকে কাঙ্খিত স্বাধীনতা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েই ান্ত হননি, বাঙালি জাতির জন্য সংবিধান রচনা করে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা এই পাঁচটি মৌলিক অধিকার সংবিধানে নিশ্চিত করে গেছেন।অথচঃ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর মতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামী লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতমিন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়।

    একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারি (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।

    ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামীর উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি আজও যারা পলাতক তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদ- কার্যকর করা এবং নৃশংস এই হত্যা যোগ্যের নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনের দাবি তুলে ধরেন বর্তমান সরকারের কাছে।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ,ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক,কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    1. সমাপনী বক্তব্যে শেষে সকল শহীদদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত ও সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১