• শিরোনাম

    চা বিক্রেতা থেকে কোটিপতি

    বিশেষ প্রতিনিধি | ২৯ মে ২০২০ | ৭:৫১ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 182 বার

    চা বিক্রেতা থেকে কোটিপতি

    চা বিক্রেতা থেকে কোটিপতি লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী।হাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ আব্দুর রউফ । ছিলেন মনু বাজারের চা বিক্রেতা। টানা ৯ বছর এই ওয়ার্ডে মেম্বারি করে এখন কোটিপতি। এমনকি নিজে এখন ওই এলাকার অঘোষিত শেখ মানে অধিপতি। আছে তার ২০ ভাই গ্রুপ। যারা চুরি থেকে এমনই কোনো কাজ নেই যা করেনি।এমনকি হিন্দুদের গরু মহিষ রাতে পা কেটে আহত করে আবার নিজে গিয়ে তা পানির দামে বিক্রি করে দেন তার ২০ ভাই গ্রুপের কাছে।

    এলাকাবাসী জানায় তার ইচ্ছা অনিচ্ছায় চলে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবকিছু। যেকোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে আগে তাকে খুশি করতে হয়।বিধবা বয়স্ক প্রতিবন্ধী ভাতার বই নলকূপ এগুলো পেতে তাকে দিতে হয় নগদ ৫/৬ হাজার টাকা ।টাকা দিলে ৫০ বছরেও একজন পেয়ে যায় ভাতার বই । না দিলে ৮০/৯০ বছরের বয়োবৃদ্ধ হলেও জুটে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, শেখ আব্দুর রউফ এর পুরো পরিবার বিএনপি।



    তিনি নিজেও ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতা। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের সাথে তিনি ও হয়ে যান সরকারি দলের লোক। এলাকাবাসী জানান এলাকার কেউ কোনো মামলায় পড়লে নিজেকে সরকারি দলের নেতা দাবি করে লিডারদের ম্যানেজ করার অজুহাতে এই শেখ মেম্বার হাতিয়ে নেন প্রচুর টাকা। মামলায় ধরন অনুযায়ী তদবির ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয় শেখ মেম্বার কে।

    এমনকি সালিশ বৈঠকে বিষয় নিষ্পত্তির আগে সমঝোতা করে উভয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ থেকেও অর্ধেক নিয়ে যান তিনি নিজে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কাছ থেকেও নেন। ওয়ার্ডবাসী জানান রাস্তাঘাট উন্নয়ন করতে প্রথমে যোগাযোগ করার জন্য তাকে কিছু দিতে হয় ।

    পরে আবার নাম মাত্র কাজ করে প্রকল্পের পুরো টাকাই উত্তোলন করে নেন।কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে মামলা মোকদ্দমার হুমকি দেন। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। এলাকার রহমান মিয়া জানান ২০১৪ সালে হরতাল অবরোধের সময় টিলাগাও ইউনিয়নের চকসালন এলাকায় ট্রেন পড়লে তার ভাই হান্নান কে মামলায় ঢুকিয়ে দেন। পরে এই মামলায় আরও বলেন কে জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শেখ মেম্বারের ২০ ভাই গ্রুপ হাতিয়ে নেয় ৪/৫ লাখ টাকা। এভাবে গত ৯ বছরে শেখ মেম্বার এখন কোটিপতি।

    এসব বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিতে চায় না। তবে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন রণচাপ এলাকাবাসী। এর পর শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকই শেখ আব্দুর রউফ এর এসব বিষয় এবং অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদকের হস্তক্ষেপ চাইছেন। জানা গেছে চলমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার নগদ ২৫০০ টাকার কার্ডে ৫০ জনের সাথে তার সমঝোতা আছে। এই ৫০ জন টাকা পাওয়ার পর মেম্বারকে দেবেন ১০০০ করে।

    ইতিমধ্যে এলাকার মোঃ আব্দুল আজিজ , মোঃ আব্দুল হান্নান , মোঃ আরাফ উদ্দিন রজব উপজেলা নিবার্হী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়াও হাজীপুর ইউনিয়নের রনচাপ গ্রামের অররেন্দ্র সরদারের বাড়ীর সম্মুখ হইতে রনচাপ গ্রামের রমুজ আলীর বাড়ী পর্যন্ত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকেল্পের মাধ্যমে রাস্তা উন্নয়নের কাজ না করে বরাদ্দের পূরো টাকা আত্তসাৎ করেছেন।

    এ ব্যায়াপরে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি শেখ আব্দুর রউফের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান আমার উপর যে অভিযোগ উঠছে তা সঠিক নয় আর আমি মেম্বারী করে কুটিপতি হইনি। আমি ১৪ বছর প্রবাসে ছিলাম, আমার দাদার আমল থেকে আমরা সম্পদশালী ছিলাম, ফজলবাগ ষ্টেইট, মনু হাসপাতাল, মনু-গাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাথাবপুর মসজিদ এগুলো আমাদেরই পরিবার ভূমি দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা।

    গত দিন আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব যে গুলো অভিযোগ ফেসবুকে দিয়েছেন তা সঠিক নয় এই পরিবারে আমি অনেক দিয়েছি।সচিন্দ্র মালাকারের দুই ছেলে প্রবাসে থাকায় সে পায় নাই কিন্ত তার ভাইসহ পরিবারের অন্যানরা ইউনিয়ন পরিষদের সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন।আমি কোন দিনও জনগনের কাছ থেকে একটি টাকাও নেইনি বা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।

    এ বিষয়েও রনচাপ গ্রামের বাবু অনিল কুমার রায়ের নাতী ররুন রায়, ইন্দ্রজিৎদাশ খুকন, সংধাংশু মল্লিক বাবুলগং শতাধিক লোকের স্বাক্ষরীত একটি অভিযোগ ২৮/০৫/২০২০ ইং তারিখে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার নিকঠ লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ গ্রহনের পর নিবার্হী কর্মকর্তা এলাকাবাসীকে জানান অভিযোগ গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     

     

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১