• শিরোনাম

    কোকের বোতলে ফেন্সিডিল নিয়ে ধরা, কারাগারে উপসচিব

    | ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ | ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 79 বার

    কোকের বোতলে ফেন্সিডিল নিয়ে ধরা, কারাগারে উপসচিব

    সম্প্রতি উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগ দেন তিনি। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে নিজেই সরকারি গাড়ি চালিয়ে রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন।সঙ্গে ছিলো ৫টি বড় কোকের বোতলে ভরা ফেন্সিডিল।এমন সময় একজন সঙ্গীসহ আটক হন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

    শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ঘটনার সময় নুরুজ্জামান নিজেকে উপসচিব পরিচয় দেন। খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের অভিযানিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নুরুজ্জামানকে নিয়ে সার্কিট হাউসে তোলেন।



    এরপর অনেক নাটকীয়তা শেষে তোলা হয় আদালতে। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে শুনানি শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহা. আবু কাহার উপসচিব নুরুজ্জামান ও তার সহযোগী লাজুককে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

    সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পাজেরো গাড়িতে করে ৫টি বড় কোকের বোতলে ফেন্সিডিল কিনে রাজশাহীতে ফেরার সময় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা সেতুর টোলঘর এলাকায় একজন সঙ্গীসহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের অভিযানিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নুরুজ্জামানকে নিয়ে সার্কিট হাউসে তোলেন।

    রাতে তাকে সার্কিট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এনডিসি মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের কর্মকর্তাদের বিদায় করে দেন। তারা সারারাত সার্কিট হাউসের প্রধান ফটকে পাহারায় কাটান।

    নুরুজ্জামানকে হস্তান্তর নিয়ে দিনভর প্রশাসনের সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের কর্মকর্তাদের দেন-দরবার ও টানাপোড়েন চলে। শনিবার দিনভর অপেক্ষার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কিট হাউস থেকে বের করা হয়।

    হেফাজতে পাওয়ার পর মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের কর্মকর্তারা উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও তার সহযোগী ওয়াহিদুজ্জামান লাজুককে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুর রহমান বাদী হয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

    রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) মোহা. জাফরুল্লাহ কাজল সাংবাদিকদের বলেন, কোকের ৫টি বড় বোতলে ফেন্সিডিল ভর্তি করে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট থেকে নিজের সরকারি গাড়িতে করে রাজশাহীর দিকে ফিরছিলেন। সেখানে আগে থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছিলেন। কালো রঙের সরকারি পাজেরো জিপটি রাত ৯টার দিকে মহানন্দা সেতুর টোলঘর এলাকায় এলে মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের কর্মকর্তারা তল্লাশির জন্য গাড়িটির চালককে দাঁড়াতে বলেন।

    ওই সময় চালকের আসনে বসা ব্যক্তি নিজেকে সরকারের একজন উপসচিব পরিচয় দিয়ে গাড়ি তল্লাশিতে প্রবল আপত্তি করেন। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতরের কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতিসাপেক্ষে গাড়িতে তল্লাশি করে কোকের ৫টি বড় বোতল পান। বোতলগুলো খুলে সেগুলোতে তরল ফেনসিডিলে ভর্তি বলে তারা শনাক্ত করেন। এসব তরল ফেনসিডিল ৬৫ বোতলের সমান ও পরিমাণে ৬ দশমিক ৭ লিটার সমান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, মাত্র কিছুদিন আগে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর আগে কোথায় ছিলেন তা আমার জানা নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে ডেপুটেশনে রাজশাহী জেলা পরিষদে পদায়ন করেছেন। যদি কোনো অপরাধ কেউ করেন তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার। তার দায় জেলা পরিষদের নয়।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১