• শিরোনাম

    কৃষকের অর্ধেক আলু পঁচে গেছে গোলায়

    | ০৯ জুন ২০২১ | ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 17 বার

    কৃষকের অর্ধেক আলু পঁচে গেছে গোলায়

    মুন্সীগঞ্জে বাড়িতে বিভিন্ন গোলায় সংরক্ষণ করে রাখা আলু পচেঁ গেছে। আলু উত্তোলনের পর লাভতো দূরের কথা উৎপাদন খরচ পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন আলু সংরক্ষণ করে রেখেছিলো কৃষক। কিন্তু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করেও উৎপাদন খরচ উঠাতে পারেনি কৃষক। তাছাড়া এখোন আলুতে পচঁন ধরে অর্ধেক আলু পচেঁ যাওয়ায় উৎপাদন খরচও এখোন দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

    মুন্সিগঞ্জ জেলায় প্রধান উৎপাদনকারী ফসল আলু। আলু উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে জেলাটি। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে আলু উত্তোলন শুরু হয়। সে সময় হতে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বিক্রি থেকে মজুদে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠে কৃষকরা। এবার প্রতি কেজিতে আলুর উৎপাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ টাকা আর উত্তোলন মৌসুমে বাজারে বিক্রি হয়েছে ১১ থেকে ১২ টাকায়। এরপর আরো দাম কমতে থাকে চলে আসে ১০ থেকে ১১ টাকায়। তাই লাভতে দূরের কথা উৎপাদন খরচ পাওয়ার আশায় আলু তুলে হিমাগারের পাশাপশি জমিতে এবং বাড়ির গোলাঘরে সংরক্ষণ করে রাখে কৃষক। ঝড় বৃষ্টির কারনে আলু সংরক্ষণ করে রাখা জমিতে পানি জমতে শুরু করায় বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েই বিক্রি করে কৃষক। কিন্তু বাড়িতে সংরক্ষণ করে রাখা আলু বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় সংরক্ষণ করে রাখছিলো। এখন তা কৃষকের গলায় ফাঁস হয়ে দাড়িয়েছে। যেভাবে পচঁন শুরু হয়েছে এখন যদি বিক্রি করা সম্ভব না হয় তাহলে কিছুদিন পরে গোলায় ভালো আলুর অস্তিত্ব খুজেঁ পাওয়া যাবেনা। তখন পচা আলু শ্রমিক নিয়ে গোলাঘর হতে পরিস্কার করতে হবে। অন্যথায় আলু পচার গন্ধে গোলাঘরের আশেপাশে বসবাস করা দায় হয়ে দাড়াবে।



    এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চাঠাতি পাড়া গ্রামের কৃষক সাত্তার বেপারী জানান, হিমাগারের পাশাপশি বাড়িতেও আলু সংরক্ষণ করেছিলাম। কিছুদিন আগেও আলু কিনার পাইকার পাইনি। এখন কিছু পাইকার আসছে। কিন্তু বৃষ্টির কারনে রাস্তাঘাট ভিজে যাওয়ায় পাইকাররা বাড়ি হতে আলু গাড়িতে করে নিতে পারছেনা। আলুতে যেভাবে পচঁন ধরছে দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে আলু সব নস্ট হয়ে যাবে। তিনি আরো জানান এখন ১১/১২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে।

    একই উপজেলার মান্দ্রা গ্রামের চাষি তজিম খান জানান, আমি একটি গোলায় ৪শত মন আলু রাখছিলাম। পরে আলু কিনার পাইকার না পেয়ে আমার এলাকার এক পাইকারকে বললাম আমার আলুগুলো নিয়ে যা। বিক্রি করে টাকা দিছ। পরে সেই পাইকার আলু মেপে অর্ধেক আলু ভালো পাইছে আর অর্ধেক পচেঁ যাওয়ায় ফেলাইয়া দিছি।

    এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জের উপ-পরিচারক মো. খোরশীদ আলম বলেন, আমরা বাড়িতে গোলাঘরে কৃষককে দেড় ফুট লেয়ার করে আলু সংরক্ষণ করার পরমর্শ দিয়ে থাকি। কিন্তু কৃষকদের গোলাঘরে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় কৃষক মূলত ৪/৫ ফিট উচু করে আলু সংরক্ষণ করে থাকে। আলু সংরক্ষণ করার পর নিয়ম হলো আলুগুলো মাঝে মাঝে নেড়ে বেছে পঁচা আলুগুলো ফেলে দিতে হবে। কিন্তু কৃষকরা ৪/৫ ফিট উচু করে আলু সংরক্ষণ করায় সে আলু নেড়ে বাছাই করা সম্ভব হয়না। একে একটা আলু পচলে তার পাশের আলুটিতে সেই পচনশীল অংশ লাগার সাথে সাথে সেই আলুটিতেও পচন সৃষ্টি হয়। আর এ কারনেই কৃষকের গোলায় সংরক্ষণ করে রাখা আলুতে ব্যাপক পচনের সৃষ্টি হয়।

    তিনি আরো জানান, এ বছর মুন্সিগঞ্জে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১৩ লক্ষ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জে বর্তমানে ৬৫টি হিমাগার সচল রয়েছে। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৫ লক্ষ মেট্টিক টন। বাকি আলু কৃষক জমিতে বাড়িতে সংরক্ষণ ও জমি হতে বিক্রি করেছে।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    এখন শুধুই বাড়ে, কমে না

    ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০