• শিরোনাম

    কুলাউড়াবাসী প্রতি খোলা চিঠি – রাফিদ শাহীন

    | ১৩ জুলাই ২০২০ | ১১:৪৯ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 237 বার

    কুলাউড়াবাসী প্রতি খোলা চিঠি – রাফিদ শাহীন

    সম্মানিত কুলাউড়াবাসী
    সমীপে খোলা চিঠি-
    ২০০১ সাল।তখন বয়স আমার খুবই অল্প। সেই অল্প বয়স থেকেই আব্বুর (এম এম শাহীন) রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের কাঁধে চড়ে পুরো কুলাউড়ার পথে-প্রান্তরে বিস্তর ঘুরে বেড়িয়েছি। তখন আব্বুকে দেখে দেখে কোনো একসময় অবচেতন মনেই ভবিষ্যতে তাঁর মতো হওয়ার স্বপ্নটা অন্তরের গভীরে লালন করা শুরু করি।

    একসময় নিজের কাছে নিজেই প্রতীজ্ঞাবদ্ধ হই- আমিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।
    ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় একরকম, বলা যায়, ফিল্মি স্টাইলে। কুলাউড়ার ইতিহাসে, আমি বলবো, প্রথম চার দলীয় জোট (আব্বুকে সে বছরও ধানের শীষ মার্কা থেকে বঞ্চিত করা হলো) বনাম নৌকা মার্কা তথা আটদলীয় জোটের রাজনৈতিক ভোট যুদ্ধ হয়েছিলো সে বছর।



    তথাকথিত ‘ওপরের’ চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করে সেই যুদ্ধে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল মার্কা’ নিয়ে শতবাঁধা ডিঙ্গিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের চমকে দেন। সেবার তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রাজনীতিতে জোরজবরদস্তি মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন মেধা, সততা, নিষ্ঠা এবং সর্বোপরি গণমানুষের ভালোবাসা।

    আমি পরবর্তীতে প্রত্যক্ষ করেছি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার সহযোদ্ধা বা সহকর্মীরা প্রত্যেকেই ছিলেন হীরের টুকরোর মতো একেকটি মূল্যবান রত্ন। তাঁদের সবার শ্রদ্ধা আর বিশ্বাসকে আব্বু যে কি পরিমাণ মূল্য দিতেন, তা বলে বোঝানো সত্যিই আমার পক্ষে দুষ্কর। সহকর্মী সহযোদ্ধাদের পরামর্শেই তাঁর সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড আবর্তিত হতো। আব্বু সেদিন আরো প্রমাণ করেছিলেন- একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও তার বিশাল কর্মীবাহিনীর তৎপরতায় কিভাবে অল্পদিনের মধ্যে মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হওয়া যায়।

    যাক, পরবর্তী ৫ বছর আব্বু যখন এমপি, তখন থেকেই কুলাউড়ার মানুষের জীবনধারা ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে। ক্রীড়াঙ্গন, শিক্ষাঙ্গন, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, আইনশৃঙ্খলা অঙ্গনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন তিনি। প্রান্তিক শহরতলি কুলাউড়ার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার মনস্তাত্বিক দূরত্ব ঘুঁচে একাকার হতে শুরু করে। আব্বুর আমন্ত্রণে সেই সময়েই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মন্ত্রী, সচিব, প্রধান বিচারপতি, ভিসি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), শিক্ষাবিদ, জাতীয় পত্রিকাসমূহের অসংখ্য সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, স্বনামধন্য নাট্যকার, গায়ক-নায়ক-নায়িকাসহ বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ বক্তিবর্গ কুলাউড়া সফর করেন।

    আব্বু স্বদেশে ও প্রবাসে একাধিক সংবাদপত্র ও প্রকাশনার কর্ণধার হওয়ায় সবার সাথেই রয়েছে তার বিশেষ ঘনিষ্ঠতা। আমার দৃষ্টিতে আব্বু একজন ভালো লবিস্টও। লবির মাধ্যমে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কিভাবে কাজ আনা যায়, তা তিনি খুব ভালোভাবেই জানতেন। তখন হয়তো বেশি বুঝতাম না, কিন্তু আজ এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা বা বিচার-বিশ্লেষণ করলে সেই উন্নয়নের হিসাবটা অনেকটাই মিলে যায়।তিনি সে সময় এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ, প্রায় ৪০০কোটি টাকার, উন্নয়ন করেছিলেন।

    এর সামান্য অংশও যদি নিজের এবং পরিবার-পরিজনদের আরাম-আয়েশের জন্য রাখতেন, যা অন্যরা করেছেন, তাহলে আজ আমরা প্রবাসে কিংবা দেশে হয়তো আরো বেশি আয়েশি জীবন কাটাতে পারতাম! আমি বা আমাদের পরিবারের কেউই এ জন্য তাঁর ওপর সামান্যতমও ক্ষুব্ধ নই, বরং সন্তান হিসেবে গর্ব করি- আমার আব্বু সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও সে পথে না গিয়ে শতভাগ সততার সাথে, নিজের কষ্টার্জিত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। যা আজও অব্যাহত রেখেছেন।

    পরে জেনেছি, ২০০১ সালে নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে আব্বুকে সে সময় ‘মন্ত্রীত্ব’ দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আব্বু নিজের লাভের স্বার্থে জনগণের পিঠে ছুঁড়ি চালাতে পারবেন না বিধায় ভোটে অংশ নিয়েছিলেন, এবং তাদের ভালোবাসায় বিপুল ভোটে নির্বাচিতও হয়েছিলেন। সেদিন আব্বু যদি লোভের কাছে হার মানতেন, তাহলে সেদিন আমিও হয়তো ‘মন্ত্রীর ছেলে’ থাকতে পারতাম।পরবর্তী ইতিহাস সবারই জানা।

    ২০০৮ সালের নির্বাচনটি ছিলো আরো একটু বেশি জটিল। আব্বু বিএনপি’র হয়ে লড়তে চাইলেন। বিএনপি ওইবারও জনতার মনোবাঞ্ছনা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে তাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করে। কিন্তু সেই সময়ে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর নির্দেশে শীর্ষ সম্মানিত নেতৃবন্দ আব্বুর সাথে যোগাযোগ করেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য।

    তখন আব্বু কুলাউড়া ও একজন তথাকতিথ প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার কথা চিন্তা করে আবারো স্বতন্ত্র নির্বাচন করলেন। আমিও দ্বিতীয়বারের ‘এমপি-মন্ত্রীর ছেলে’ তকমা পাবার সূবর্ণ সুযোগ (!) হতে আবারো বঞ্চিত হলাম! কিন্তু আব্বু নিজের ব্যক্তিত্ব আর ক্লিন ইমেজকে প্রাধান্য দিয়ে কোন দলের না হয়ে বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করেন। তখনও আব্বুর সাথে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়, যা আপনারা সবাই জানেন। ‘এক ভোটে দুই এমপি’ নির্বাচিত ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়; যার দায়ভার পরবর্তীতে কুলাউড়াবাসীকেই বইতে দেখেছি নিজ চোখে। যে কারণে পাঁচটি বছরের জন্য পিছিয়ে গিয়েছিলো আমাদের কুলাউড়ার উন্নয়ন।

    ২০১১-২০১৩ সালেও আব্বুকে কয়েকবার প্রস্তাব দেয়া হয় আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার জন্য। কিন্তু তখন আব্বু আওয়ামী লীগে গেলে অনেকেই আত্মহত্যা করবেন, অনেক মানুষ কষ্ট পাবেন- এসব চিন্তা থেকে তিনি যোগ দিলেন না।
    যে দলের বড় বড় নেতারা টাকা আর নিজের স্বার্থের কাছে সমগ্র জাতির স্বার্থ বিকিয়ে দেয়, সেই দল কখনই মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। বিএনপির অবহেলার কারণে অঝরে হারিয়ে গেছে অনেক বীর রাজনৈতিক প্রাণ, যারা কখনো নিজের স্বার্থ দেখে রাজনীতি করতেন না।
    যা হোক, এই সময়টা আব্বু, আমাদের পরিবার কিছুটা হলেও দুঃখকষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলো। কারণ আমরা তখনো বিএনপি ব্র্যান্ডেড। যদিও আব্বু শত প্রতিকূলতার মধ্যে লড়াই করে যাচ্ছিলেন দিনের পর দিন।

    শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে তখনো বিএনপির মতো একটি দলকে চালিয়েছিলেন। তার জন্য আমরা পরিবার হিসেবে কত দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তা কখনো কাউকেই বুঝতে দেইনি আমরা।২০১৩ সাল। আব্বুর আবারও সুযোগ আসলো আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করার! তখন সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো আব্বু ২০১৪ সালেও এমপি থাকতেন। কিন্তু আব্বু তা করলেন না, নিজ আদর্শ এবং জনগণের দিকে তাকিয়ে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরও বিরত থাকলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    আপনাদের অনেকের হয়তো স্মরণ আছে, আমরা ২০ জনের মতো ব্যাটমিন্টন খেলছিলাম আমাদের বাসার উঠোনে।
    নির্বাচনের নিউজ প্রত্যাখ্যান করে আব্বুর স্বার্থে খেলা বন্ধ করে প্রতিবাদে মাঠে নেমে পড়ি। ঠাণ্ডার দিন, আমার মনে আছে পরের দিন সকালে উঠে রেদোয়ান আঙ্কেল, সজল কাক্কু, তোপই দাদা, খোকন কাক্কু, কালা চাচা, সোফিয়ান চাচ্চু, আশিক, রাজন ও শামীমসহ সবাইকে ফোন দিয়ে উঠিয়ে নিজে গিয়ে কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে হরতালে অংশ নিলাম। এতে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হলো। এমন কি আব্বুসহ অনেকে গ্রেফতারও হলেন। অনেক নেতাকর্মী জেলে। তাদের জন্য মৌলভীবাজারের কোর্টে ওই বয়সে দৌড়াদৌড়ি করেঅনেক অভিজ্ঞতা হলো।

    ২০১৮।বছরটি ছিলো একটি রূপকথার গল্প-কাহিনীর মতো। চারদিকে নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, আব্বুও প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচন করার জন্য। দল ঘুরেফিরে সেই বিএনপি, যে দল আব্বুর জন্য তাদের দরজা দিনের পর দিন তালা দিয়েছেএবং রাজনীতিতে কোণঠাঁসা করে রেখেছে, সেই বিএনপির হয়ে নির্বাচন প্রতিদ্বন্ধিতা করার ইচ্ছা পোষণ করলেন।

    আমি যেহেতু তখন আগের চেয়ে অনেকটাই বড় হয়েছি, বোঝার ক্ষমতা কিছুটা হয়েছে এবং পলিটিক্যাল সাইয়েন্সে নিউইয়র্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি, তাই আব্বুকে বলেছিলাম- এবারও বিএনপি তাকে ধোঁকা দেবে। কারণ বিএনপির হাইকমান্ড তোমার মূল্য বুঝে না, মূল্যায়ন করার ক্ষমতা রাখে না, সাধারণ জনগণ তথা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দেয় না। কুলাউড়ার মতামত সবসময় যে দলে উপেক্ষিত হয়েছে, সে দল থেকে আগেই সম্মানের সাথে সরে যাওয়া ভালো।

    ২০১৮ সালে নির্বাচনের পূর্বে সিলেটে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভা। ঐ সভায় ফের প্রমাণিত হলো- জনপ্রিয় দল বিএনপি কিছু ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছে (ক্ষমা করবেন ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেললাম বলে! এটা অবশ্য আমার একক রাজনৈতিক মূল্যায়ন)। বিএনপির মতো দল সেই সব ছিনতাইকারীদের কথায় উঠবস শুরু করতে লাগলো। সিলেটের মঞ্চে বিএনপির কোন প্রাধান্য নেই।সেই মঞ্চ থেকে কুলাউড়ার দু’জন নেতাকে নামিয়ে দেয়া হলো। যেহেতু তিনি রাজনীতি করেন, নীতির প্রশ্নে আপোষহীন, কঠোর নিয়মকানুন মেনে চলা ব্যক্তি।

    সিলেটে যাওয়া সফরসঙ্গীরা ব্যথিত হৃদয়ে বাড়ি ফিরলেন। আর আব্বু সরাসরি ঢাকা ফিরে ২৫ বছরের অটল সিদ্ধান্তে থাকা মানুষটির মত পরিবর্তন করে ১৪ দলীয় জোটের আহ্বানে সাড়া দিলেন।অব্শ্য তাঁর মত পরিবর্তনের আগে কুলাউড়া এসে দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করে রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দেন।

    আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি- হাজারো মানুষের মতামত উপেক্ষা করে একজন ছিনতাইকারী বা বসন্তের কোকিলকে দেয়া হলো বিএনপির নমিনেশন, যার আজীবন রাজনীতিধারা ছিলো সম্পূর্ণ ডিফরেন্ট। কুলাউড়া বিএনপির অতি উৎসাহিত কিছু নেতাকর্মী আব্বুর এতো ত্যাগ, এতো কষ্ট ভুলে গিয়ে কাজ করলেন কিনা একজন চিহ্নিত গভীর ষড়যন্ত্রকারী বসন্তের কোকিলের পেছনে!

    বিএনপির সমর্থকদের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখার ইচ্ছে থাকলেও তা আর করা হয়নি। আব্বুওতো আপনাদের সাথে জেল-জুলুম খেটেছিলেন, চিরদিন আপনাদের সম্মান করেছেন। পরিবারকে উপেক্ষা করে দিন-রাত আপনাদের সঙ্গ দিয়েছেন? একটিবারওকী মনে পড়েনি- আপানাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আপদে-বিপদে, বিয়ে-সাদি-জানাযায়, পূজা-পার্বনে সুখে-দুখে খরায়-বন্যায় প্রথম সারিতে হাজির হয়েছেন যিনি, তিনি আপনাদের নেতা এম এম শাহীন। আব্বুর কথা না হয় বাদ দেন, আমাদের পরিবারের সদস্যরাও কি আপনাদের জন্য কম কিছু করেছে? একটিবারের জন্য স্মরণে এলো না? তা ভাবতে আজ অবাকই লাগে।

    সেদিন বিএনপির অনৈতিক সিদ্ধান্তে এলাকার ১০০ নেতা-কর্মীর সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ করতে না পারাটা আজও আমার কাছে গভীর বিস্ময়কর মনে হয়েছে। যারা আদর্শের দোহাই দেন, সেই আদর্শের (!) ধ্বজাধারিরা সুখে-দুখে ঢাকা থেকে রফতানি করা ব্যক্তি কোন দিন কুলাউড়া এসে কারোর পাশে একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখিনি।

    যা হোক, যারা আব্বুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলো, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি তা থেকে রক্ষা পেলেন। স্বাধীন বাংলার রূপকার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই আব্বুর কদর বুঝলেন! তিনি সব সময়ই একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, পরোপকারী, সংগঠক, সংবাদ মাধ্যমের কর্মী হিসেবে আব্বুকে মূল্যায়ন করতেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুকূল্যে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুনরুদ্ধার হলো, আর তাঁর প্রতীক নৌকা দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেন।

    নতুন পরিবার, পুরোনো দল, অচেনা অনেক সম্মানিত নেতা-কর্মীরা জীবনবাজি রেখে এক মাসের নির্বাচনের কর্মকান্ড শুরু হলো। দীর্ঘ এক মাস না ঘুমিয়ে কুলাউড়ার অলিতেগলিতে ঘুরেছি। সত্য তুলে ধরায় মানুষের অভূত সাড়া ও ভালোবাসা পেয়েছি। স্বল্প সময়ের এই ভালোবাসার প্রতিদান কখনও আমি কিংবা আমাদের পরিবার ভুলতে পারবে না। যদিও শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাইনি কুলাউড়াবাসীসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ দেয়ার।

    নির্বাচনের সময় আমার উইন্টার সেমিস্টার চলছিল। বড় ইচ্ছে ছিল ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে আবার সবাইকে ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা জানাবো, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস চলছিল তাই তাড়াহুড়ো করে চলে আসি নিউ ইয়র্ক।
    আজকে অনেকের মতো আমিও উপলব্ধি করছি, যদি এ নির্বাচনে আব্বু জয়ী হতেন, কুলাউড়াবাসীর দীর্ঘদিনের অপূর্ণ-অসমাপ্ত কাজগুলো ব্যাপকভাবে আদায় হতো। এলাকার বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতো। সরকারের মাইলফলক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকতো। কিন্তু আজ কুলাউড়ার আপামর জনগণই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কৌশলে ষড়যন্ত্রকারীরা কুলাউড়াকে বহুবছর পিছিয়ে দিয়েছে।

    আপনাদের মনে রাখা দরকার- আব্বু কিন্তু সেদিন ভোটে হারেননি, বরং জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটে অর্থাৎ মাত্র আড়াই হাজারের ব্যবধানে! কুলাউড়ার ইতিহাসে নৌকা প্রতীকে ১৩ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকায় মাত্র ২০ দিনের তৎপরতায় ৭৮ হাজার ভোট পেয়েছেন। যা অতীতে কোন প্রার্থী ১৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এলাকায় তার সমপরিমাণ ভোটও পাননি।

    যাক, সত্য-মিথ্যা, ভালো-খারাপের যুদ্ধে এবার খারাপ ও মিথ্যার জয় হলো। ২০১৮ সালের পর আব্বুর সাথে যেভাবে খোলামেলাভাবে কথা হয়েছে, অনেক কিছু জানতে পারছি। তিনি এই ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন যে, মানুষের জীবনের ৫টি মূল্যবান বছরতো নষ্ট হয়ে গেলো!
    আব্বু হয়তো জাতীয় নেতা হতে পারেনি, হয়েছেন জনগণের নেতা, গণমানুষের নেতা। সেজন্যই তাঁর সব সময়ের চিন্তা- জন্ম মাটি কুলাউড়া, আর কুলাউড়ার জনগণ।

    মনের অজান্তেই অনেক কিছু লিখে ফেলেছি বলে আমায় ক্ষমা করবেন।
    অনুরোধ করবো- আগামীতে উন্নয়নের হাট কুলাউড়া যেন আর বঞ্চিত না হয়। কারণ সবশেষে দল-মত-জাতি-গোষ্ঠী পরিচয়ের উর্ধে কুলাউড়া আমাদেরই ।

    -আপনাদের স্নেহধন্য
    রাফিদ শাহীন।

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১