• শিরোনাম

    কাউয়াদিঘি হাওরে ২‘শ শ্রমিক নিয়ে ধান কাটলেন মেয়র ফজলুর রহমান

    | ০৪ মে ২০২১ | ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 61 বার

    কাউয়াদিঘি হাওরে ২‘শ শ্রমিক নিয়ে ধান কাটলেন মেয়র ফজলুর রহমান

    মৌলভীবাজারের হাওরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় একযোগে ধান কাটতে নেমেছেন কৃষক ও নানা পেশার বেকার মানুষ। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে জনপ্রতিনিধিরাও ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন। তবে চলমান করোনা ভাইরাসে শ্রমিক সংকট, ঝড়-বৃষ্টি ও আগাম বন্যার আগে কাঙ্খিত ফসল ঘরে তোলতে চান কৃষকরা।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে গেল বছরের মতো এবারও ২ ‘শ শ্রমিক নিয়ে স্বেচ্ছায় ধান কেটে দিলেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান।

     



    ১ মে শনিবার বেলা ১১ থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের ফতেপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে কৃষকের ধান কেটে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর কাউন্সিলর নাহিদ হোসেন, সৈয়দ সেলিম হক, পার্থ সারথী পাল ও সালেহ আহমদ পাপ্পু ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

    মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে পৌর কাউন্সিলর ও পৌর কর্মচারী সহ ২০০ পেশাদার শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে নামেন। ধান কাটার পাশাপাশি মূলত কৃষক ও সর্বস্থরের মানুষের উৎসাহ দেয়া।
    রাজনগর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহাদুল ইসলাম জানান, মনু প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদিঘি হাওরের শ্রমিকদের পাশাপাশি ৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টারে ধান কাটা চলছে। ৪ থেকে ৫ দিন সময় পেলে হাওরের পূরো ধান কাটা শেষ হবে।

    মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের, উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হাকালুকি হাওরের শতভাগ ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ শেষ হয়েছে। জেলার ছোট বড় সব হাওর মিলিয়ে গড়ে ৯৩ ভাগ ধান কাটা শেষে হয়েছে। কয়েক দিনের পূরো ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।

     

    কাউয়াদিঘি হাওর পড়েছে মনু প্রকল্পের ভেতর। এর অবস্থান মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায়। কাউয়াদিঘি হাওরে প্রকল্পের ভেতর এ বছর শুধু ৮ হাজার ৪ শত ৯৬ হেক্টর জমিতে রোরো ধান চাষ হয়েছে।

    পূরো জেলায় চলতি বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৫৬ হাজার ৩’শ ৪৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে ২ হাজার ৮’শ ১৫ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদরে ১০ হাজার ৫৩ হেক্টর, রাজনগর ১৩ হাজার ৬‘শ ৩০ হেক্টর, কুলাউড়া ৭ হাজার ৯‘শ ১২ হেক্টর, জুড়ী ৫ হাজার ৭ ‘শ ৭০ হেক্টর, বড়লেখা ৪ হাজার ৯‘শ ৪০ হেক্টর, কমলগঞ্জ ৪ হাজার ২‘শ ৮৮ হেক্টর, শ্রীমঙ্গল ৯ হাজার ৬‘শ ৫২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

    এছাড়াও গেল আমন ধানের চাষ হয়েছে জেলায় ১ লক্ষ ১ হাজার ৪’শ ৫০ হেক্টর জমিতে। গেল বছর (২০২০ সাল) আউস ধানের আবাদ হয়েছে ৫৫ হাজার ৪’শ ৪০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর আউস এর লক্ষ্য মাত্র ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৫’শ ৯৩ হেক্টর জমি।
    ২০১৯-২০২০ সালে জেলায় মোট খাদ্যের চাহিদা ছিল ৪ লক্ষ ৭ হাজার ১ শত ৩৬ মেট্রিক টন। গেল ৩ মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ৬ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪ শত ৬০ মেট্রিক টন। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৩ শত ২৪ মেট্রিক টন।

     

    তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি বোরো মৌসুমে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ২৫ হাজার কৃষককে ৫০ কেজি হাইব্রিড জাতের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়। পৃথক ভাবে ১ হাজর ৮’শ কৃষককে প্রণোদনার ১ কেজি করে হাইব্রিড বীজ ও সাথে সার সরবরাহ করা হয়।
    তিনি আরও জানান, বর্তমানে আউস ধানের জন্য প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার কৃষকদের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে ব্রি-ধান ৪৮ বীজ ও ৩০ কেজি করে সার বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০