• শিরোনাম

    করোনা সংক্রমণে মৃত্যু কবরের অনুমতি না পেয়ে মুসলিম বৃদ্ধের লাশ পোড়াতে হল শ্মশানে

    | ০৩ এপ্রিল ২০২০ | ১:২৭ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 312 বার

    করোনা সংক্রমণে মৃত্যু কবরের অনুমতি না পেয়ে মুসলিম বৃদ্ধের লাশ পোড়াতে হল শ্মশানে

    করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কারণে কবরের দিতে বাধা দেওয়ায় এক মুসলিম বৃদ্ধকে পোড়ানো হয়েছে শ্মশানে। ভারতে ওই বৃদ্ধের লাশ দাফন দেয়ার অনুমতি দেয়নি কবরস্থান কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে মৃতদেহ পোড়াতে হয়েছে বলে অভিযোগ করে মৃতের পরিবার।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মুম্বই শহরতলির মালাডের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।



    জানা গিয়েছে, মুম্বই শহরতলির মালাড মালওয়ানির বাসিন্দা ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ। যোগেশ্বরীর এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মালাডের এই কবরস্থানে বুধবার (১ এপ্রিল) লাশ নিয়ে গেলে কবর দিতে বাধা দেওয়া হয়। কারণ দেখানো হয়েছিল, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। তাই কবর দেওয়া যাবে না।

    পৌরসভা অনুমতি থাকলেও, বাধা দেওয়া হয় ওই পরিবারকে। স্থানীয় থানা পুলিশ ও রাজনীতিবিদরা এসেও আদায় করতে পারেনি দাফনের অনুমতি।

    এরপর কয়েকজন সমাজকর্মী স্থানীয় হিন্দু সৎকার সমিতির দ্বারস্থ হলে, তারা শ্মশানে দাহ করার অনুমতি দেয়। সব প্রক্রিয়া সেরে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শ্মশানেই সম্পন্ন হয় মৃতের সৎকার।

    এ বিষয়ে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যের মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক আসলাম শেখ বলেছেন, সরকারি নির্দেশে বলা আছে, করোনা সংক্রমণে কোনো মুলসিমের মৃত্যু হলে তাঁকে কাছের কোনো স্থানে কবর দিতে হবে। কিন্তু এই পরিবারের ক্ষেত্রে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। কাউকে না জানিয়ে, সেই লাশ নিয়ে সোজা মালওয়ানির ওই কবরস্থানে চলে গিয়েছিল মৃতের পরিবার। কবরস্থান কমিটিও বিষয়টি জানত না। ফলে এই অসুবিধা হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আসলাম শেখ।

    তবে অন্য কথা বলছে মৃতের ছেলে। তাঁর অভিযোগ, “আমি বাবার লাশ নিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি কেউ সাহায্য করতে আসেনি। আমরা চেয়েছিলাম মালাড-মালওয়ানি কবরস্থানে সৎকার করতে। কিন্তু কবরস্থান কমিটি সৎকারে অনুমতি দেয়নি। বলা হয়েছিল, করোনা সংক্রমণে মৃত্যু, তাই কবর দেওয়া যাবে না।”

    স্থানীয় বিধায়কের মতোই কাউন্সিলর বললেন, “পৌরসভার কর্মীরা জানতেন, করোনায় কোনো মুসলিমের মৃত্যু হলে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন দিতে হবে। সেখানে কীভাবে যোগেশ্বরী থেকে মালাড আনা হল দেহ।”

    উল্লেখ্য, ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৯ জনে। আর মৃতের সংখ্যা ৫৩। তারমধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৫ জন।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১