• শিরোনাম

    আন্তরিকভাবে দু:খিতঃ – এম এম শাহীন

    | ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 833 বার

    আন্তরিকভাবে দু:খিতঃ  – এম এম শাহীন

    করোনা মহামারীর কিছুদিন অাগেই সংক্ষিপ্ত সফরে অামেরিকায় গিয়েছিলেন সাবেক এমপি ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এম শাহীন। পরিস্থিতি যখন তুংঙ্গে তখন তিনি জন্মভূমিতে ফিরতে পারেন নি। কিন্তু তাঁর মন পড়ে রয়েছে জন্মমাটিতে।

    প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিয়েছেন, নিচ্ছেন। মনের ভেতরের কষ্টটুকু, এলাকার প্রতি দায়ভার, দায়িত্ববোধ তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ফুটে উঠেছে। তা হুবহু সন্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো।



    সাম্প্রতিক করোনাসঙ্কটে এলাকায় আমার অনুপস্থিতি নিয়ে অনেকেই তাদের ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। আমি মনে করি, তারা আমার প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা ও মমতা থেকেই তা করেছেন।
    কেননা গত ২৫ বছর ধরে আমি কুলাউড়ার রাজনীতিতে সক্রিয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, বিয়ে-শাদি, কাফন-দাফন, রোজা-পূজা, ঈদে-চান্দে, ওয়াজে-মাহফিলে, খরায়-বন্যায়, কোর্ট-কাচারি- সব জায়গাতেই আমাকে সবসময় হাজির পেয়েছেন।

    এজন্য আমাকে প্রতিপক্ষের অপবাদও কম সইতে হয়নি। কেউ কেউ ছটি (আকিকা) এমপি কিংবা দাফনের এমপি বলেও আমাকে নিয়ে আড়ালে হাসি-ঠাট্টা করেছেন! এতোকিছুর পরও কেউ আমাকে সামাজিক, রাজনৈতিক বা মানবিক কর্মকান্ড থেকে দমাতে পারেননি।

    যে লোকটিকে যেকোন প্রয়োজনে সবসময় পাওয়া যায়, সেই তাকেই যদি এবার গভীর সঙ্কটের সময় তারা না পান, তাহলে তাদের রাগ-ক্ষোভ-অভিমান হওয়াইতো স্বাভাবিক বলে আমি মনে করি!

    একটু পেছনের কথা বলি। আমি তখন নিউ ইয়র্কে। ২০১৮ সালে ভয়াবহ বন্যায় কুলাউড়ার শরিফপুর, হাজিপুর ও টিলাগাঁও এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সারা উপজেলা প্লাবিত হয়। হাজার হাজার একর ধানী ফসলী জমি নষ্ট হয়। শত শত বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়। গৃহহীন হয়ে পড়ে সহস্রধিক লোক।

    এলাকবাসীর চরম দুর্ভোগের খবর শোনামাত্র টিকিট কনফর্ম করে রওয়ানা দিই দেশের পথে।ঢাকা নেমেই ট্রেনে কুলাউড়ায় চলে যাই। বাসায় না গিয়ে রেল স্টেশন থেকেই সরাসরি বন্যা উপদ্রুত এলাকা চলে যাই। পরবর্তীতে অন্যান্যদের পাশাপাশি নিজের তহবিল থেকেও প্রায় ১৫-২০ লক্ষ টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করি।

    একইভাবে গত বছর আগষ্স্ট মাসে খরস্রোতা মনু নদীতে শতবর্ষীয় পুরাতন কাউকাপন বাজার সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। একই সময়ে কটারকোনা বাজার সংলগ্ন এলাকাও বাঁধ ভেঙে আংশিক নদীতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকা পরিদর্শন করি।

    এছাড়া গত জুন মাসে কুলাউড়ার বরমচাল নামক স্থানে মারাত্মক দুর্ঘটনা কবলিত হয় আন্তঃনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস। ৪ জন নিহতসহ আহত হন শতাধিক। সে সময়ও সবার পাশে থেকে চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সম্পৃক্ত থাকতে।

    আপনারা অনেকে জানেন, আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ও বহির্বিশ্বে সর্বাধিক প্রচারিত জনপ্রিয় বাংলা সংবাদপত্র ’ঠিকানা’ গত তিন দশক ধরে স্বদেশ-প্রবাসে সেতুবন্ধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    সে কারণে আমাকে বছরে অন্তত একবার নিউইয়র্ক সফর করতে হয়। এ বছরের শুরুর দিকে রুটিনমাফিক আমি গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিউইয়র্কে আসি এবং প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শেষ করে ২১ মার্চ দেশে ফেরার টিকিট কনফার্ম করি।

    কিন্তু তার আগেই করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করে লন্ডভন্ড করে দেয় গোটা বিশ্বকে! সারাবিশ্বের অনেক দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ককেও লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরে আসতে পারিনি।

    আমার সামনে যদি দেশে ফিরে আসার সামান্যতম সুযোগও থাকতো, তাহলে কেউ আমায় আটকে রাখতে পারতো না। আর বিদেশে না থেকে যদি আমি ঢাকায় থাকতাম, তাহলে আমি জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে অবশ্যই আমি আমার প্রিয় জন্ম মাটি ও মানুষের পাশে থাকতাম।
    কেউ যদি ভেবে থাকেন- আপনাদের কাছ থেকে দূরে থেকে আমি ভালো আছি, তাহলে আমার সাথে অন্যায় আচরণ করা হবে। দৈহিকভাবে দূরে থাকলেও আপনারা আছেন আমার মন ও মননে। আপনাদের প্রতি মুহূর্তের সংবাদ আমি নিয়মিত পাই।

    পরিস্থতি সামান্যও অনুকূলে এলে আমি আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবো ইনশা আল্লাহ।
    কুলাউড়াসহ দেশবাসীর ভয়ানক এ সংকটময় মুহূর্তে আমার অনিচ্ছাকৃত এ অনুপস্থিতির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি আপনারা আমার এ অপারগতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    পরিশেষে বলবো, কুলাউড়ার সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, উপজেলা-ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনী ,সামরিক বাহিনী, সাংবাদিক,করোনাযুদ্ধে সম্মুখ সমরের যোদ্ধা ডাক্তার-নার্স-স্বাস্হ্যকর্মীসহ প্রবাসীদের যারা তাঁদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমাদের কুলাউড়াবাসীকে রক্ষার্থে নিয়োজিত করেছেন- আপনাদের এ সেবা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    আপনাদের কাছে মিনতি, আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। মনে রাখবেন- এ ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচতে একমাত্র প্রতিষেধক সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১